লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৩৬ জন রোগী। প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন নতুন নতুন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় সদরসহ জেলার ৫টি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৯জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ।

এদিকে এডিস মশার উৎপত্তিতে অপরিচ্ছন্ন শহর, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তুপ ও অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন সচেতন মহল। তবে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে মানুষের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পৌর মেয়র বলছেন, সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার উৎপত্তি স্থল নির্ধারণ করে প্রতিকারে মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপক‚লীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে এখন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। গত ২৪ ঘণ্টায় সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪ জন রোগী। বর্তমানে নারী-শিশু, যুবক, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী ৬৯জন রোগী মশারি টাঙিয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে এসব রোগীদের সেবা দিতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। রোগীর চাপে এখানে ডায়রিয়া বিভাগে দু’টি ইউনিট চালু করেছে কর্তৃপক্ষ।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে গত কয়েক দিন ধরে ১৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী জেলার রামগঞ্জ, রামগতি, কমলনগর, রায়পুর ও সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে যারা চিকিৎসাধীন রয়েছে, তারা আগের চেয়ে অনেকটা ভালোর দিকে আছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকে ঢাকা থেকে এসেছেন। কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকাসহ গ্রাম অঞ্চলেও মশা নিধনে নেয়া হয়নি প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা। লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ড্রেন ও রহমতখালীর দু’পাড়ে ময়লা-আবর্জনা ও পঁচা পানি জমে থাকায় এডিস মশার বিস্তার ঘটছে। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম নেই বলে অভিযোগ করেন পৌর বাসিন্দারা। এতে করে তারা আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান।

এদিকে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. আহমেদ কবীর বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে মানুষের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ সচেতনতার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র মোজাম্মেল হায়দার ভূঁইয়া মাসুম বলেন, মশা প্রতিরোধে হাসপাতাল ও পৌর এলাকায় ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এছাড়া মানুষকে সচেতন করতে মাইকিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights