লাফিয়ে বাড়ছে গ্যাসের দাম, বিপাকে ইউরোপ?

অনলাইন ডেস্ক

ইরান যুদ্ধ এবং রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ধারাবাহিক চেষ্টার মুখে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাল। অনলাইন ডাটা অ্যাগ্রিগেটর ‘ট্রেডিং ইকোনমিক্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার ইউরোপে পাইকারি গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৯৭ ইউরো (১০৮ ডলার) ছাড়িয়ে গেছে। যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ।

এদিকে আগামী ২৫ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত কেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার মাত্র ৭৪.৬২ শতাংশ গ্যাস অবশিষ্ট রয়েছে, যা এই সময়ের সাধারণ গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম।

চলতি বছরের শুরুর দিকে শুরু হওয়া ইরান সংঘাতের কারণে সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে বিশ্বব্যাপী মোট এলএনজি বা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ পরিবাহিত হতো, যা এখন সংঘাত-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এর মধ্যে তাপমাত্রা হ্রাস পেতে থাকায় কিছু ইউরোপীয় দেশ ইতোমধ্যেই তাদের জরুরি মজুত থেকে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। ট্রেডিং ইকোনমিক্স ধারণা করছে, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের শেষ নাগাদ ইউরোপে প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা গ্যাসের দাম ৯৮.২০ ইউরো স্পর্শ করতে পারে।

যুক্তরাজ্যে এক মাস মেয়াদি গ্যাসের চুক্তিগুলো ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে এক লাফেই ৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম গত সপ্তাহে ব্যারেল প্রতি ১১৭ ডলারে পৌঁছানোর পর কিছুটা কমে বর্তমানে ১১৫ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাবে ব্রিটিশ পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে আগামী জানুয়ারিতে জ্বালানি বিল ২৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা গড় বার্ষিক খরচ প্রায় ২২০০ পাউন্ড বা ২৯৪০ ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইডিএফ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি বিষয়ক কমিশনার ড্যান জোরগেনসেন গত সেপ্টেম্বরে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ২০২২ সালের পর বর্তমান সময়ে ব্লকটি সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষাপটে জার্মানির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বার্লিন তিন বিলিয়ন ইউরোর একটি জাতীয় জরুরি গ্যাস রিজার্ভ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যার খরচ বহন করতে হবে সাধারণ পরিবার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তবে এই রিজার্ভ গ্যাসের দাম কমানোর বদলে কেবল পরিকাঠামোগত বিপর্যয়ের মতো জরুরি মুহূর্তেই ব্যবহার করা হবে। এদিকে বিরোধী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ বা এএফডি রাশিয়ার সঙ্গে পুনরায় জ্বালানি সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই ইউরোপ মহাদেশ জুড়ে শিল্প খাত ও গৃহস্থালি পর্যায়ে খরচের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যায়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ইউরোপে মোট গ্যাস আমদানির ৪৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে আসলেও ২০২৫ সাল নাগাদ তা ১২ শতাংশে নেমে এসেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি সম্পর্ক ছিন্ন করার এই প্রচেষ্টাকে আত্মঘাতী বলে অভিহিত করা হয়েছে।

সূত্র: আরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights