শরতের নীল ক্যানভাসে রাঙামাটির পাহাড়

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

সবুজ পাহাড়ে বুক চিরে ঘুরে বেড়ায় শুভ্র সাদা মেঘ। নীল আকাশের রঙে রঙিন কাপ্তাই হ্রদ। এলোমেলো সারিতে সাজানো উঁচুনিচু পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে দোল খায় শরৎ ঘাসফুল। প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটি। ভরা পর্যটন মৌসুমে রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লেগে থাকে। দেশিবিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও এখন মেতে উঠেছেন প্রকৃতি বন্দনায়। রাঙামাটির সৌন্দর্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে যার নাম সবার আগে আসে, তা হলো কাপ্তাই হ্রদ। এর আয়তন প্রায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার। শুধু কাপ্তাই হ্রদ নয়, এখানে আছে আকর্ষণীয় বেশকিছু পর্যটনকেন্দ্র, অসংখ্য দর্শনীয় ও উপভোগ্য স্থান। মূল শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের হলিডে কমপ্লেক্স। এখানকার দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। এ ছাড়া হ্রদে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে সুলভ মূল্যে স্পিডবোট, প্যাডলবোট ও ইঞ্জিনবোটের সুব্যবস্থা। আছে বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নে অবস্থিত মনোমুগ্ধকর সুবলং ঝরনা। আবার শহরের উত্তরে নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের স্মৃতিসৌধ। এ ছাড়া সড়কপথে রয়েছে কাপ্তাই-আসামবস্তি সড়ক। এ সড়কের চারপাশে রয়েছে প্রকৃতির নানা রূপ বৈচিত্র্য। লেক ভিউ আর হিল ভিউর দৃশ্য এখানে একসঙ্গে উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা। তবে ভরা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে আছে ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন। তাই ঝুলন্ত সেতুতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পর্যটন মৌসূমের ঝুলন্ত সেতু ডুবে থাকায় অনেক রাজস্ব হারাতে হচ্ছে। তবে আশা করি, দ্রুত কমে যাবে ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনের পানি। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে পর্যটক বরণে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights