শীতের দাপটে বরিশালে শিশু রোগী ভর্তি বেড়েছে ছয়গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

হঠাৎ শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে শিশু ভর্তি বেড়েছে প্রায় ছয়গুণ।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে প্রায় ৫০ মিটারে নেমে এসেছে। নদী ও সড়ক পথে দৃষ্টিসীমা আরও কমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল জানান, গত বুধবার থেকে বরিশালে ঘন কুয়াশা পড়ছে। ফলে খুব কম সময় সূর্যের আলো পাওয়া যাচ্ছে। এতে উষ্ণতা কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি বেড়েছে। বর্তমানে দিনে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মতো সূর্যের কিরণ মিলছে। দুপুরের পর কিছু সময় রোদ থাকলেও বিকেল তিনটার মধ্যেই কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ।

তিনি আরও বলেন, একদিনের ব্যবধানে দিনের তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শুক্রবার কমে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ১ ডিগ্রিতে। গত দুই দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থির রয়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। জানুয়ারি মাসে শীত আরও বাড়বে এবং এ সময় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর জানান, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে মোট ৪১টি শয্যা থাকলেও বর্তমানে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ শিশু ভর্তি রয়েছে। চরম সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, শীতের সময় শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এ সময়ে শিশু ও প্রবীণদের উষ্ণ রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights