সবুজের সংস্পর্শে বয়সের হার কমে : গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
পার্ক বা অন্যান্য সবুজ স্থানের সংস্পর্শে মানুষ কোষের বয়সের হার কমে যায়। সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্টে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় এই তথ্যাদি দেখা গেছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, যারা বেশি সবুজ স্থানের আশপাশে বসবাস করেন, তাদের দীর্ঘ টেলোমেরেস রয়েছে, যা দীর্ঘ জীবন ও ধীর বার্ধক্যের সঙ্গে যুক্ত। টেলেমোর ক্রোমোজমের শেষ প্রান্তের একটি ডিএনএ অংশবিশেষ।

টেলোমেরেস এমন কাঠামো, যা প্রতিটি কোষের ৪৬টি ক্রোমোজমের শেষ প্রান্তে অবস্থান করে। জুতার ফিতে দুই প্রান্তে যেমন প্লাস্টিকের টুপি থাকে তেমনি টেলোমেরেস ক্রোমোজমের ডিএনএকে উন্মোচন থেকে বিরত রাখে। একটি কোষের টেলোমের যত দীর্ঘ হবে, তত বেশি তা প্রতিলিপি করা যাবে। যখন টেলোমেরেস ছোট হয়ে যায়, তখন কোষ বিভক্ত হতে পারে না, কোষ মারা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার বিজ্ঞানী অ্যারন হিপ বলেন, নতুন গবেষণা বলছে আমরা কোথায় থাকি, আমরা কিসের সংস্পর্শে আসি, আমরা কতক্ষণ ব্যায়াম করি, আমরা কী খাই, সবই টেলোমেরের গতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এতে আমাদের বার্ধক্য প্রক্রিয়ায় প্রভাব দেখা যায়। লম্বা টেলোমের সাধারণত ছোট টেলোমেরের চেয়ে বেশি সুরক্ষা দেয়, সহায়তা দেয় বেশি। লম্বা টেলোমের কোষকে বার্ধক্যপ্রক্রিয়া থেকে রক্ষা করে। সবুজ স্থান শারীরিক কার্যকলাপ ও ব্যক্তির সঙ্গে আশপাশের মানুষের মিথস্ক্রিয়াকে উৎসাহিত করে। এতে ভালো স্বাস্থ্যগত ফলাফল পাওয়া যায়। প্রচুর গাছ ও সবুজের আশপাশের এলাকা প্রায়শই শীতল, বন্যার থেকে যেমন প্রতিরোধী হয় তেমনি বায়ুদূষণের হার কম থাকে

গবেষণায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। যারা দূষণের শিকার সবুজ এলাকায় বাস করেন, তাদের টেলোমেরেসের দৈর্ঘ্য ছোট দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা ১৯৯৯ ও ২০০২ সালের পরিচালিত জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধসংক্রান্ত এক জরিপের তথ্যাদি বিশ্লেষণ করেন।

গবেষণায় ৭ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের জৈবিক নমুনা থেকে টেলোমেরের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা হয়। সবুজ স্থানে যারা বাস করেন, তাদের বার্ধক্যের কোষের বৃদ্ধি হ্রাস পেতে দেখা যায়। ৫ শতাংশ সবুজ বৃদ্ধি করলে ১ শতাংশ কোষের বৃদ্ধি কমে যেতে দেখা যায়। এলাকা যত সবুজ হবে, কোষের বয়স তত ধীর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights