হঠাৎ করে মৌলভীবাজারে একে একে মরছে গরু, কী এই লাম্পি স্কিন রোগ?
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাবে গরুর মৃত্যু থামছেই না। এতে আতঙ্কে পড়েছেন খামারিরা, বিশেষ করে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মৌসুমী খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নে ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি গরু মারা গেছে। মারা যাওয়া গরুগুলোর মধ্যে বাছুরের সংখ্যা বেশি। এমন পরিস্থিতিতে অনেক খামারি আতঙ্কে কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উপজেলার পশ্চিমভাগ এলাকার প্রান্তিক খামারি বুট্টু ঘোষ বলেন, তার একটি অস্ট্রেলিয়ান দুধের গাভী এবং কয়েকটি দেশি গরু রয়েছে। দুধ ও বাছুর বিক্রি করেই তার জীবিকা চলে। সম্প্রতি তার একটি দুধের গাভীর বাছুর লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, এতে তিনি বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
একই এলাকার ক্ষুদ্র খামারি সিয়াবালি জানান, তার একটি বকনা বাছুর প্রায় ১০ দিন ধরে অসুস্থ ছিল। চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।
মৌসুমি খামারি আতিক বলেন, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনটি ষাঁড় গরু লালন-পালন করছিলেন। হঠাৎ করেই তিনটি গরুই মারা যায়।
উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু রাজনগর নয়, জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে।
এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে চাকাচাকা দাগ হয়, লোম উঠে যায় এবং ক্ষত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া পা ফুলে যায়, উচ্চমাত্রার জ্বর হয়, নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হয় এবং গরু খাওয়া বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে ছটফট করতে করতে মারা যায়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় নিবন্ধিত ৪৫টি খামারে ৪৭৯টি গাভী রয়েছে। এছাড়া ১০৬টি অনিবন্ধিত খামারে ১ হাজার ৭৮৬টি গাভী রয়েছে। গরু হৃষ্টপুষ্টকরণে নিবন্ধিত ৬টি খামারে ৪৬টি এবং ১৬২টি অনিবন্ধিত খামারে ১ হাজার ১৯২টি গরু রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম মোস্তাকিম বিল্লা বলেন, এটি একটি ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিলে গরু সুস্থ হয়ে ওঠে।
