হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুমিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যু বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। মানুষের মৃত্যুর পেছনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দায়ী ১০ রোগ। এর মধ্যে হার্ট অ্যাটাক বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএসের প্রতিবেদনে মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণ দেখানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় ‘হার্ট অ্যাটাকে’। অন্য কারণগুলো হলো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেন স্ট্রোক), শ্বাসতন্ত্রের রোগ, যকৃতের ক্যান্সার, অ্যাজমা, সাধারণ জ্বর, উচ্চ রক্তচাপ, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস। গত ২৪ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে হার্ট অ্যাটাকে প্রতি ১ হাজার জনে ১ দশমিক শূন্য ২ জন মারা গেছেন, ২০২২ সালেও ১ দশমিক শূন্য ২ জন মারা গেছেন, ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ দশমিক শূন্য ৩ । ব্রেন স্ট্রোকে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ৬৪ জন, এর আগের বছরে এ সংখ্যা ছিল শূন্য দশমিক ৫৩। শ্বাসতন্ত্রের রোগে ২০২৩ সালে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ৫৭ জন, এর আগের বছর মারা গেছেন শূন্য দশমিক ৫৬ জন। যকৃতের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২৭ জন, ২০২২ সালে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২৩ জন। ২০২১ সালে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২১ জন। অ্যাজমা আক্রান্ত হয়ে ২০২৩ সালে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২৭ জন। এর আগের বছর মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২৮ জন। ২০২১ সালে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২৯ জন। সাধারণ জ্বরে গত বছরে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২৩ জন, ২০২২ সালে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২৭ জন। উচ্চ রক্তচাপে গত বছর মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২২ জন, ২০২২ সালে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ১৯ জন। নিউমোনিয়ায় গত বছর মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২২ জন, ২০২২ সালেও মৃত্যুহার একই ছিল। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত বছর মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২১ জন, ২০২২ সালেও মৃত্যুহার একই ছিল। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে গত বছর মারা গেছেন শূন্য দশমিক ২১ জন, ২০২২ সালে মারা গেছেন শূন্য দশমিক ১৮ জন।

বিবিএস বলছে, ২০২২ সালে দেশে এক বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার ছিল হাজারে ২৫ জন, যা ২০২৩ সালে বেড়ে হয়েছে ২৭। পাঁচ বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ২১। অন্যদিকে এক মাসের কম বয়সী নবজাতকের মৃত্যুহার হঠাৎ বেড়ে গেছে। প্রতি ১ হাজার জীবিত নবজাতকের মধ্যে ২০ জন মারা যায়। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৬। পাঁচ বছর আগে ছিল ১৫। এ ছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ৩৩ জন। ২০২২ সালে ছিল ৩১ জন। পাঁচ বছর আগে ছিল আরও কম, ২৮ জন। প্রতিবেদনটি প্রকাশকারী বিবিএসের এসভিআরএস ইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রকল্পের পরিচালক আলমগীর হোসেন অনুষ্ঠানে বলেন, শিশুমৃত্যু বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। ৪০ বছর পার হলেই অনেকে এমন রোগে আক্রান্ত হন। এসব কারণে গড় আয়ু কমতে পারে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘অসংক্রামক রোগে মৃত্যু বাড়ছে। এ রোগগুলো প্রতিরোধযোগ্য। শিশুমৃত্যু ঊর্ধ্বমুখী। এসব রোগে মৃত্যু কমিয়ে আনতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। শহর অঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কোনো ব্যবস্থা নেই। গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও সেখানে জনবল সংকট। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানে শুধু ওষুধ কিংবা টিকা দেওয়া নয়, আরও অনেক ধরনের সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিশুদের পুষ্টি, গর্ভবতী নারীদের বিভিন্ন পরামর্শ প্রয়োজন হয়। সামাজিক সুরক্ষার আওতায় থাকা ৩-৪ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে পারলে স্বাস্থ্যসূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights