হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

গভীর রাতে ছাত্রীনিবাসে পুলিশের প্রবেশ ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে উত্তাল রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ)। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার দিনভর বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন তাঁরা। একই সঙ্গে অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে অধ্যক্ষকে উদ্ধারের নামে পুলিশ ছাত্রীনিবাসে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চুল ধরে টেনে নামানো হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের মুঠোফোন ও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। এ ঘটনায় আহত কয়েকজন ছাত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনে দুই দফা দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা। প্রথম দাবিতে তাঁরা বলেন, পুলিশের হামলার অভিযোগ তদন্তে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁরা।

দ্বিতীয় দাবিতে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। অধ্যক্ষকে কলেজে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাঁরা বলেন, মৌখিক আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করা হবে না। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার সঙ্গে শিক্ষকদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাঁদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, কলেজের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে অবস্থিত অধ্যক্ষের সরকারি বাসভবন বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সকাল থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তবে পূর্বঘোষিত সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিবেচনায় সকালে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হতে দেন তাঁরা। একই সঙ্গে লিখিত বিবৃতিতে জানান, পরীক্ষা হতে দেওয়ার অর্থ আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়।

সকাল ১০টার দিকে কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশের প্রবেশ ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা।

দুপুর দেড়টার দিকে সড়ক থেকে সরে কলেজের ভেতরে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। পরে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে নীলক্ষেত মোড়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

এদিকে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার ও লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামিল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অসুস্থ অধ্যক্ষকে নারী পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সড়ক অবরোধের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্মারকলিপি বা লিখিতভাবে দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

লাঠিচার্জসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তাঁরা শুধু অধ্যক্ষকে উদ্ধার করতে যান। এ সময় নারী পুলিশ সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। অধ্যক্ষকে উদ্ধারের পর শিক্ষার্থীদের ফিরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানান তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights