২২ বছর সংকটে ধুঁকছে লালমাই উপজেলার একমাত্র কারিগরি স্কুল

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

মুক্তবাংলা কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সীমান্তবর্তী তাজের ভোমরা গ্রামে। ২২বছরেও প্রতিষ্ঠানটিতে একটি পাকা ভবন হয়নি, হয়নি এমপিওভুক্ত। নানা সংকটে ধুঁকছে প্রতিষ্ঠানটি। নানা সংকটে ৩শতাধিক শিক্ষার্থী থেকে কমে এখন দেড়শতাধিকে দাঁড়িয়েছে।

স্কুল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লার লালমাই, নাঙ্গলকোট ও লাকসাম উপজেলার সীমান্তবর্তী তাজের ভোমরা গ্রামে ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সৈয়দ খোরশেদ আলম। স্কুলে ৩৫ শতক জমি দান করেন গ্রামের দানবীর মাওলানা ওসমান গনি। পরবর্তীতে আরো ১৪ শতক জমি দান করেন আরেক দানবীর আবদুল হালিম মজুমদার। স্কুলটির আশপাশে চার কিলোমিটারে কোন উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় সৈয়দ খোরশেদ আলম এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে স্কুলটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক ধরে রাখা যাচ্ছে না। প্রধান শিক্ষক বিনা বেতনে স্কুলটি আকড়ে ধরে আছেন। নামমাত্র বেতনে কয়েকজন শিক্ষকতা করছেন। এদিকে ভবন না থাকায় শিক্ষার্থী কমে যায়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্কুল মাঠ পানিতে ডুবে আছে। পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে প্রবেশ করছেন। টিনের দোচালা ভবন। ঘর ও বারান্দার চাল ছুয়ে পানি পড়ছে। বারান্দাও পানিতে ডুবে আছে। সেখানে ইট পেতে তার ওপর দিয়ে শিক্ষার্থীরা হাঁটছেন। ক্লাসের ভেতরে পানি পড়ে বই খাতা ভিজে যায়। পর্যাপ্ত লাইট না থাকায় অন্ধকার কক্ষে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছেন। পানি পড়ে কক্ষের মেঝে যেন ধানের চাষের জমি হয়ে গেছে।

প্রধান শিক্ষক সৈয়দ খোরশেদ আলম বলেন, টিনের ঘরে মোট ৫টি কক্ষ রয়েছে। একটিতে আমরা শিক্ষকরা বসি। বাকি চারটিতে ৫টি শ্রেণির ক্লাস হয়। এক কক্ষে দুইটি শ্রেণিকে একসাথে বসিয়ে ক্লাস নেওয়া হয়।

লালমাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মাদুল্লাহ বলেন, আমাদের উপজেলায় আর কারিগরি স্কুল নেই। স্কুলটি এমপিওভুক্ত ও ভবন হলে শিক্ষার মান আরো বাড়বে। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের কর্মসংস্থান বাড়বে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights