৮ ইনিংসে ৫ ফিফটি ১ সেঞ্চুরি, অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা রাদারফোর্ডের

অনলাইন ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি, টি-টেনের ক্রিকেটার হিসেবেই ক্রিকেটবিশ্বে তার পরিচিতি। সেই তিনি এখন নিজের আলাদা পরিচয় গড়তে শুরু করেছেন। নতুন আঙিনায় পা রেখেই তীব্র আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে দিতে শুরু করেছেন। বলছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ব্যাটার শেরফেইন রাদারফোর্ডের কথা।

রাদারফোর্ড এখন ওয়ানডে ক্রিকেটের আকাশের উজ্জ্বল তারা। ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলার শুরুতেই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। রবিবার (০৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতেও সেই ছাপ রাখলেন আরও প্রবলভাবে।

সেন্ট কিটসে রবিবার রাদারফোর্ড যখন ক্রিজে যান, ২৯৫ রান তাড়ায় তখন যথেষ্টই নড়বড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকেই দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নেন তিনি শেই হোপের সঙ্গে জুটিতে। অধিনায়ক হোপ যখন আউট হন, তখনও ৭৭ বলে ১০২ রান লাগে তাদের। রাদারফোর্ড সেই পথ পাড়ি দেন চোখের পলকে।

সাতটি চার ও আট ছক্কায় ৮০ বলে ১১৩ রান করে তিনি যখন আউট হন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন জয়ের দুয়ারে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম ইনিংসেই তিনি পেলেন প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ। আগের সাত ইনিংসে ফিফটি পাঁচটি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে তার টি-টোয়েন্টি অভিষেক সেই ২০১৮ সালে। এই সংস্করণই মূলত খেলে আসছিলেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলে বেড়াচ্ছিলেন ক্রিকেট বিশ্বময়। টি-টোয়েন্টি অভিষেকের ছয় বছর পর গত ডিসেম্বরে ওয়ানডে অভিষেক তার।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেদিন ৬ রানে আউট হয়ে যান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পরের ম্যাচে প্রথম ফিফটির দেখা পেয়ে আউট হন ৬৩ রানে। তৃতীয় ম্যাচে আবার ব্যর্থ (৩)। এরপর গত অক্টোবরে শ্রীলঙ্কা সফরে দুর্দান্তভাবে নিজেকে মেলে ধরেন। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত থাকেন ৭৪ রান করে, পরের ম্যাচে করেন ৮০। শেষ ম্যাচে ২৬ বলে অপরাজিত ৫০। এরপর গত মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে কেবল একবার ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে করেন ৩৬ বলে ৫২।

সেই ধারাবাহিকতা সঙ্গী করে এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে করে ফেললেন সেঞ্চুরি। তার টানা পঞ্চম পঞ্চাশ ছোঁয়া স্কোর। সব মিলিয়ে ৮ ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ৭৩.৮৩, স্ট্রাইক রেট ১১১.৩০। পরের ম্যাচে ফিফটি করতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টানা পঞ্চাশ ছোঁয়ার রেকর্ডে তিনি স্পর্শ করবেন গর্ডন গ্রিনিজ ও ক্রিস গেইলকে।

তিনি জানান, মূল ব্যাপার হলো কঠোর পরিশ্রম করা। নিজের খেলা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করি আমি। সেভাবিই চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে এবং ভালো পারফর্ম করার জন্য নিজেকে সম্ভাব্য সেরা সুযোগ দিতে। ভালো লাগছে যে, সেসব কাজে দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights