“অচিন পাখি”
“হাসিনা মরিয়ম”
“বিষন্ন আকাশ
একঘেয়ে বৃষ্টির টিপটিপ শব্দ
স্যাঁতস্যাঁতে বিকেলটা যেন-
কিশোরীর গোমড়ানো কান্না-
মাটির সোদা গন্ধ-
আমাকে স্পর্শ করেনা-
বুকের ভেতর হাহাকার করে কে যেন নেই বলে,
দুটি চোখ তারা করে প্রতিনিয়ত আমাকে
বারবার প্রশ্ন করি- কে তুমি?
জবাব মেলে না তার-
বেদনার্ত চোখ দুটির আকুলতা-
হাজারো কষ্টের কথামালা-ঝরে পড়ে অশ্রু হয়ে-
দুর্ভেদ্য সেই ভাষা-বোঝা হয়না আমার
মনে হয় যেন আমাকেই ডাকছে
এসো কাছে এসো মানবী…
চোখ বন্ধ করে আমি কান পেতে রাখি-
শুনতে চেষ্টা করি অস্পষ্ট শব্দ গুলোকে-
শব্দগুলোর মালা গেঁথে মেলে ধরি-
বিমোহিত হই শব্দের গুঞ্জনে…
অচেনা চোখদুটো খুব আপন হয়ে যায় আমার
আমাকেই খুঁজছে সে গ্রহ থেকে গ্রহে-
আমিই নাকি তার সেই
হ্যারিয়ে যাওয়া প্রিয় মুখ…
আমাকে খুঁজে খুঁজে সে,
চলে এসেছে মাটির পৃথিবীতে শুধু
আমিই পারি তাকে একটা অবয়ব দিতে-
যদি কখনও আমার ভালবাসা স্পর্শ করে তাকে-
তবে সে ফিরে পাবে তার সবকিছু…
বড় আপন মনে হয় চোখ দুটিকে…মনে হচ্ছে-
এই চোখ আমি জনম জনম ধরে চিনি-
হাত বাড়িয়ে দিই আমি-ওকে স্পর্শ করার মিশেল
অনূভূতি নিয়ে-
অবাক হয়ে চেয়ে থাকি আমি…আমার অজান্তেই
অস্ফুটে বলি আমি…কে তুমি…
এগিয়ে আসে ও আমার দিকে-
হাতদুটো বাড়িয়ে আমার মুখখানি তুলে ধরে-
বলে…এখনও চিনতে পারনি তোমার তুমিকে-
চেয়ে দেখো আমার চোখে-এখানে
শুধু তোমারই বাস-
আমার সমস্ত অস্তিত্বে তুমি মিলেমিশে একাকার,
হারিয়ে যাওয়া আমরা দুজন-
আবার দুজনকে খুঁজে পেয়েছি…
মনের গভীরে হাতড়াতে থাকি
আকুলভাবে খুঁজতে থাকি
প্রিয় মানবের প্রিয় মুখখানি…
