অতিরিক্ত সময়ে গোলরক্ষক পরিবর্তনই কাল হলো অস্ট্রেলিয়ার

অনলাইন ডেস্ক

৯২ বছর পর নকআউট পর্বে উঠেই ইতিহাস গড়ল উত্তর আফ্রিকার দেশ মিশর। নির্ধারিত সময়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়ে সালাহারা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও ফলাফল না আসায় খেলা নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে।

শুরুতে দুটি টসেই জিতে যান মিশরের অধিনায়ক সালাহ। সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি আগে পেনাল্টি নিতে পাঠান অস্ট্রেলিয়াকে। টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে এসে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটার। এরপর একে একে গোল করেন দুই দলের খেলোয়াড়রা।

তৃতীয় শট নিতে আসা সালাহ নিজে নেন সাহসী এক পেনাল্টি, পানেনকা শটে বল জড়ান জালে। তার ঠিক পরেই অস্ট্রেলিয়ার লুকাস হেরিংটনের শট বাইরে চলে যায়। এরপর আবদেল মাজিদ গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে বল ঠেলে দেন জালে। আর তাতেই ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে নেয় মিশর।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে মিশরের বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিহত করেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। তবে টাইব্রেকারেরর ম্যাচ গড়ানোর আগেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। ম্যাচ হারের পর কোচ টনি পোপোভিচের এই এমন সিদ্ধান্তটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

২২ বছর বয়সী বিচ বিশ্বকাপে এসেছিলেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ম্যাথিউ রায়ান-এর বিকল্প বা ‘নাম্বার টু’ হিসেবে। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি প্রতিটি ম্যাচেই মূল একাদশে খেলেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন। কিন্তু ডালাসে মিশরের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে, যখন খেলাটি পেনাল্টি শুটআউটের দিকে গড়াচ্ছিল, তখন অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

পোপোভিচ তার জায়গায় রায়ানকে নামান, কিন্তু তিনি কোনো পেনাল্টি ঠেকাতে ব্যর্থ হন। গোলরক্ষক পরিবর্তনের বিষয়ে বিচ অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমকে বলেন, এ ব্যাপারে আপনাদের কোচদের সঙ্গেই কথা বলতে হবে। আপনারা যখন জেনেছিলেন, আমিও ঠিক তখনই বিষয়টি জানতে পারি। স্বাভাবিকভাবেই এর পেছনে একটি পরিকল্পনা ছিল, যা আমাদের জানার বিষয় ছিল না। কোচেরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আর দলের জন্য যা সবচেয়ে ভালো এবং যা দলের জন্য সেরা ফলাফল বয়ে আনবে, সেই কাজটি করার জন্যই ম্যাটি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রায়ানও এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। না, না ম্যাচের আগে আমাকে এ ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি।অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গোলরক্ষক মার্ক বসনিচ এই সিদ্ধান্তে ‘হতবাক’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। আরেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক মার্ক শোয়ারজার মন্তব্য করেছেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, যে গোলরক্ষক খেলছিলেন, তাকেই গোলপোস্টের নিচে থাকা উচিত ছিল। অন্যদিকে সাবেক অস্ট্রেলীয় ফুটবলার রবি স্লেটার বিষয়টিকে কোচিং স্টাফদের ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ম্যাচের হারের দায় কোচিং স্টাফদেরই নিতে হবে এবং আমার মতে এটি তাদের আরেকটি ব্যর্থতা।

এছাড়া ডিফেন্ডার লুকাস হেরিংটনকে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও স্লেটার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ১৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের শটটি গোলপোস্টের বারে আঘাত করে। তিনি লিখেছেন, এই দায়িত্বটি কখনোই তার কাঁধে দেওয়া উচিত হয়নি।

তবে পপোভিচ তার নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর পক্ষে যুক্তি দেন এবং দলের জন্য গর্ববোধের কথা জানান। পপোভিচ বলেন, ঠিক আছে, কৌশলটি কাজে আসেনি, এর পেছনের কারণ হিসেবে অনেক কিছুই খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে ম্যাটির (ম্যাথিউ রায়ান) অভিজ্ঞতার কথা ভাবুন। বিশেষ করে পেনাল্টি ঠেকানোর ক্ষেত্রে তার অতীতের রেকর্ডটি দেখুন।আমরা কেবল এটাই মনে করেছিলাম যে ম্যাটির অভিজ্ঞতাই হয়তো পার্থক্য গড়ে দেবে।ম্যাচ শেষে হেরিংটনকে অত্যন্ত হতাশ দেখালেও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নিজের দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন।

অস্ট্রেলীয় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কোচিং স্টাফরা আমার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই এগিয়েছিলাম এবং জানতাম বলটি কোথায় মারতে চাই। দুর্ভাগ্যবশত এটি ফুটবলেরই একটি অংশ—আমি গোল করতে পারিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights