অধরা জঙ্গল সলিমপুরের ডনেরা

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
অধরা রয়ে গেছে জঙ্গল সলিমপুরের ডনেরা। সোমবারের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়নি বড় সন্ত্রাসীদের কেউ। অক্ষত রয়েছে তাদের অস্ত্রভান্ডারও। অভিযোগ উঠছে আগেই অভিযানের খবর পেয়ে সটকে পড়ে তারা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে- তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সন্ত্রাসীদের বিষয়ে তথ্য রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে তারা আর টিকতে পারবে না।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপরাধ) নাজমুল হাসান বলেন, ‘ওই এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তাদের রয়েছে নানান স্তরের সোর্স। এই চেইন ভাঙতে কাজ করছে পুলিশ।’

জানা যায়- সীতাকুণ্ড উপজেলায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান জঙ্গল সলিমপুরের। ৩ হাজার ১০০ একরের পাহাড়ি এলাকাটি যেন অন্য একটি দেশ। এই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে ছোট বড় ২৫টি সন্ত্রাসী গ্রুপ। যার মধ্যে ৭টি গ্রুপ এলাকার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। এ বাহিনীগুলো পুরো এলাকা মনিটরিং করে সিসি ক্যামেরা দিয়ে। যাতায়াতের সড়কগুলোতে রয়েছে তাদের সোর্স। যারা প্রশাসনের গতিবিধি দেখলেই সংবাদ পৌঁছে দেয় সন্ত্রাসীদের কাছে। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যেই রয়েছে তাদের ‘নিজস্ব লোক’। ফলে প্রশাসনের প্রতিটা গতিবিধি সহজে পেয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

জানা গেছে, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় গড়ে উঠেছে দেশি অস্ত্র তৈরির কারখানা। চট্টগ্রামের মাদক সাম্রাজ্যের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ হয় ওই এলাকা থেকেই। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ করার পর গ্রেপ্তার এড়াতে সলিমপুরে গা ঢাকা থেকে সন্ত্রাসীরা।

সোমবারের অভিযানে গ্রেপ্তার ২২ : গতকাল দুপুরে নগরের খুলশী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ জানান- জঙ্গল সলিমপুরের যৌথ অভিযানে ২২ জনকে আটক এবং ৩০টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দেশি পিস্তল, এলজি, ২৭টি দেশি তৈরি পাইপগান, তিনটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, অস্ত্র তৈরির ২৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, প্রায় ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি। এ ছাড়া ১১টি ককটেল, ১৮টি হেক্সোব্লেড এবং হাতুড়ি, প্লাস, রেঞ্চ, ড্রিল মেশিনসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিআইজি জানান, সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা ও সম্ভাব্য অপরাধীদের অবস্থানস্থলে তল্লাশি চালানো হয়। পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ টাওয়ার শনাক্ত করা হয়। অভিযানের সময় এসব নজরদারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights