অনলাইন ভার্সন ১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপ, কঠিন চ্যালেঞ্জে ধারাভাষ্যকার ও সম্প্রচারকর্মীরা

অনলাইন ডেস্ক

খেলোয়াড়দের জন্য যেমন চলতি বিশ্বকাপ বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছেন ধারাভাষ্যকার ও সম্প্রচারকর্মীরাও। তিনটি দেশে ১৬টি শহরে ছড়িয়ে থাকা ১০৪ ম্যাচের এই আসরকে অনেকেই বলছেন তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ৩৯ দিনের এই বিশ্বকাপ ইতোমধ্যে আয়, দর্শকসংখ্যা ও বৈশ্বিক পৌঁছানোর দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২২৩টি অঞ্চলে শতাধিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বিশ্বকাপ সম্প্রচার করছে। তবে এই বিশাল আয়োজনের পেছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের নিরলস পরিশ্রম। বিশেষ করে ধারাভাষ্যকারদের প্রতিটি ম্যাচের আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। দল, খেলোয়াড়, পরিসংখ্যান ও নানা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এক শহর থেকে আরেক শহরে নিয়মিত ভ্রমণও করতে হচ্ছে তাদের।

ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যমের ধারাভাষ্যকার স্টিভ বাওয়ার বলেন, ‘৩০ বছরের পেশাগত জীবনে এত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে আগে পড়েননি। এই টুর্নামেন্ট সত্যিই পাগলামি। এত দল, এত ম্যাচ, এত ভ্রমণ সবকিছুই আমাদের নতুনভাবে পরীক্ষা নিচ্ছে।’

তিনি জানান, বিশাল স্টেডিয়ামে অনেক দূর থেকে খেলোয়াড়দের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই রঙের বুট পরায় অনেক সময় বিভ্রান্তিও তৈরি হয়। এর সঙ্গে থাকে একই সময়ে একাধিক ম্যাচের হিসাব এবং দ্রুত বদলে যাওয়া সমীকরণ মাথায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না তাদের।

যুক্তরাষ্ট্রের স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারমাধ্যম টেলেমুন্দো এই বিশ্বকাপ কভার করতে তিনটি শহরে স্টুডিও স্থাপন করেছে। তাদের ৮০ জন উপস্থাপক ও বিশ্লেষক, ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি প্রযোজনা কর্মী এবং ১৬টি আয়োজক শহরে প্রতিবেদক ও ক্যামেরা দল কাজ করছে।

কানাডার বেল মিডিয়া ২০২৩ সাল থেকেই এই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করে। ভ্যাঙ্কুভার, টরন্টো ও মন্ট্রিয়লে স্টুডিওর পাশাপাশি ডালাসে ফিফার সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রেও তাদের আলাদা দল রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স স্পোর্টসও রেকর্ডসংখ্যক দর্শক পেয়েছে। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গড়ে ৫০ লাখ দর্শক খেলা দেখেছেন, যা কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ৯২ শতাংশ বেশি। ১০৪টি ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য তারা ১২ জন সাবেক ফুটবলারকে বিশ্লেষক এবং ৯ জোড়া ধারাভাষ্যকার নিয়োগ দিয়েছে।

ধারাভাষ্যকার ড্যারেন ফ্লেচার বলেন, প্রতিটি ম্যাচের আগে তিনি খেলোয়াড়দের নামের সঠিক উচ্চারণ পর্যন্ত আলাদাভাবে লিখে প্রস্তুতি নেন। এমনকি নোট নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার পর এখন তিনি সেগুলো লেমিনেট করেও রাখেন।

সব চাপের মধ্যেও স্টিভ বাওয়ার ও ড্যারেন ফ্লেচার মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো আসর কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া তাদের জন্য বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। তাদের ভাষায়, বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের কাছে ফুটবলের গল্প পৌঁছে দেওয়ার চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।

সূত্র : রয়র্টাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights