অনিয়ম দুর্নীতি ও লোপাটকৃত কোটি টাকার তদন্ত এখনও অন্ধকারে

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কোটি
টাকার অর্থ লোপাটের ঘটনা তদন্তের অভাবে আজও অন্ধকারে তলিয়ে রয়েছে। কেন্দ্রের একাধিক
কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উঠে আসা এই গুরুতর অভিযোগে স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ
দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রের একাধিক কর্মকর্তা মিলে বিভিন্ন
প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এতে প্রশিক্ষণের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি, সরকারি
কোষাগারেও ব্যাপক লোকসান হয়েছে।
কোটি টাকার কেনা কাটায় অনিয়ম, চলছে হরিলুট, ভুয়া ভাউচারে কোটি টাকা আত্মসাৎ,
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের টাকা ভাগাভাগি, দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের
শিক্ষার্থীদের ব্যানারে দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সম্মুখে অত্র কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে
মানববন্ধন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে.
দুর্নীতি দমন কমিশন, দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তদন্ত শুরু করেন ৬ সদস্য বিশিষ্ট
একটি দুদক এনফোর্সমেন্ট, এসময় কিছু কাগজ পত্র জব্দ করেন এবং, তদন্ত শেষে অনিয়ম ও
দুর্নীতির প্রমাণ খুঁজে পান তদন্ত টিম।
পরবর্তীতে দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রাক্তন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ রানা ও
জনাব নিমাই কুমার দত্ত, চিফ ইন্সট্রাকটর (ক¤িপউটার) এবং শেখ রাকিবুল হাসান, চিফ
ইন্সট্রাক্টর ইলেক্ট্রিক্যালসহ অন্যান্য সহযোগীদের অনিয়ম দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতির বিষয়ে উচ্চতর
তদন্ত পূর্বক লোপাটকৃত সরকারি অর্থ প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধারের
জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
মন্ত্রণালয় থেকে উপ সচিব এ.এস.এম ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত ১৩/০৩/২০২৩ স্মারক নং-
৪৯.০০.০০০০.০৫০.২৭.০০৯.২২-২২ উল্লিখিত উপযুক্ত বিষয়ে ও সূত্রস্থ পত্রের প্রেক্ষিতে জানানো হয়
যে, দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো. মাসুদ রানা এর
বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আগামী ১০ কার্যদিবস এর মধ্যে
তদন্ত পূর্বক মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট দাখিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ ক্রমে
অনুরোধ করা হলেও আজও অবধি এই তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
এই ঘটনার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা ও বাধা সৃষ্টির বিভিন্ন কারণ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা
গেছে। তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও তাদের কাজে যথেষ্ট দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কিছু সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে তদন্তে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্নীতিতে জড়িতদের স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগাযোগ
থাকার কারণে তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনায় সরকারের

দায়িত্ব রয়েছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার
পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও
জরুরি বলে মনে করেন তারা। এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তদন্ত
দ্রুত সম্পন্ন করার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ রানার কাছে সরকারি
অর্থ কোটি টাকা লোপাটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত টিম
এসে তদন্ত করে গেছেন, তারা সরকারি অর্থ লোপাটের বিষয়ে তদন্ত করে কিছুই পান নি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় উপসচিব এ.এস.এম ফজলুর রহমানকে
একাধিকবার ফন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights