‘অপুষ্টি দূরীকরণে অন্যতম উপায় জিংকসমৃদ্ধ চাল’

দিনাজপুর প্রতিনিধি

মানবদেহে জিংকের ঘাটতি থেকে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এই অপুষ্টি দূর করতে জিংকসমৃদ্ধ চাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন কৃষি ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা। দিনাজপুরে এক কর্মশালায় তারা বিশেষ করে নারী, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এ চালের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তারা আরও বলেন, জিংকসমৃদ্ধ চালে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধার বিকাশ ঘটে। ক্ষুধামন্দা দূর করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

বুধবার সকালে দিনাজপুর শহরের একটি মিলনায়তনে হারভেস্ট প্লাস সলিউশন এ কর্মশালা আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।

আরো বক্তব্যে রাখেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম, হারভেস্টপ্লাস সলিউশনস প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মজিবর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক এটিএম নাজমুল হুদা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্রের পিএসও ড. রবিউল ইসলাম।

কর্মশালায় জিংক সমৃদ্ধ ধান ও গমের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে এই জাতের ধান চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমেই পুষ্টি ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

মো. মজিবর রহমান জানান, বাংলাদেশে ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউটের উদ্ভাবিত পাঁচটি বায়ো ফর্টিফাইড জিংক ধানের জাত রয়েছে। এগুলো হলো ব্রি ধান ৬২, ব্রি ধান ৬৪, ব্রি ধান ৭২ ও ব্রি ধান ৮৪।

মানব শরীরে জিংকের গুরত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, জিংকের অভাবে বিশেষত শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া জিংকের অভাবে ক্ষুধামন্দা, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। নারীদের বন্ধ্যাত্ব কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিংক গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কর্মশালায় দিনাজপুরের কৃষি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights