অফিসের অতিরিক্ত কাজের চাপে কর্মীর মৃত্যু!

অনলাইন ডেস্ক
ঘটনাটি ঘটেছে চীনে। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৩২ বছর বয়সী প্রোগ্রামার গাও গুয়াংহুই। তার পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত কাজের চাপই এই মৃত্যুর কারণ।

চীনা সংবামাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (এসসিএমপি)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে পদোন্নতি পেয়ে গাও গুয়াংহুই একটি টিমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর থেকে অতিরিক্ত সময় কাজ করা তার জন্য প্রায় স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তবে প্রতিবেদনে ‘লি’ নামে উল্লেখ করা তার স্ত্রী প্রায়ই তাকে সময়মতো বাড়ি ফিরতে অনুরোধ করতেন।

লি বলেন, যদি সময়কে পেছনে ফেরানো যেত, তাহলে আমি ওকে জোর করেই চাকরিটা ছেড়ে দিতে বলতাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন (২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর ) সকালে গাও গুয়াংহুই অসুস্থ বোধ করলেও বাসা থেকেই কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিনই বিকালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে আকস্মিক হৃদরোগ (হার্ট অ্যাটাক) উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে একটি বিষয়। তা হলো গাও গুয়াংহুইয়ের মৃত্যুর আট ঘণ্টা পর তার মোবাইল ফোনে অফিস থেকে একটি কাজসংক্রান্ত বার্তা আসে, যেখানে জরুরি পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনা চীনের তথাকথিত সবসময় অনলাইনে থাকার কর্মসংস্কৃতির বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ উসকে দেয়। অথচ দেশটির শ্রম আইনে বলা আছে, একজন কর্মীর দৈনিক কাজের সময় ৮ ঘণ্টার বেশি এবং সাপ্তাহিক কাজের সময় ৪৪ ঘণ্টার বেশি হওয়া উচিত নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাও গুয়াংহুই মধ্য চীনের হেনান প্রদেশ থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াংঝু শহরে পাড়ি জমান। তার শৈশব ছিল কঠিন। পকেটমানির জন্য তিনি একসময় রাস্তায় ময়লা কুড়িয়ে দিতেন এবং কলেজে পড়াকালীন খণ্ডকালীন কাজও করেছেন। গাও গুয়াংহুই তার স্কুলজীবনের সহপাঠীকে বিয়ে করেন। তাদের কোনও সন্তান নেই। তার স্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত কাজের চাপই তার স্বামীর মৃত্যুর মূল কারণ। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গাও গুয়াংহুই কাজ করতেন সিভিটিই গ্রুপে। তারা কিছু ক্ষতিপূরণ দিলেও মৃত্যুর দায় স্বীকার করেনি। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights