অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে আধুনিক যাত্রীছাউনি

হাসান ইমন
রাজধানীর প্রবেশদ্বার ও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত এলাকাটি একসময় সাজানো হয়েছিল আধুনিক রূপরেখায়। বিদেশি পর্যটক ও রাষ্ট্রীয় অতিথিদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প। তবে বর্তমানে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ আর তদারকির অভাবে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের অধিকাংশ উপকরণই এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো বিশাল ডিজিটাল এলইডি বিলবোর্ডগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এই আধুনিক স্ক্রিনগুলো সচল না করায় সেগুলোতে ধুলোর আস্তর পড়েছে। সাধারণ যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য এ রুটে নির্মাণ করা হয়েছিল ডিজিটাল সুযোগসুবিধা সংবলিত যাত্রী ছাউনি। তবে বর্তমানে ছাউনিগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। অনেক ছাউনির কাচ ভেঙে গেছে, ডিসপ্লে বোর্ড নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলো এখন ভবঘুরেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা এর সুফল ভোগ করতে পারছেন না। সড়ক পরিষ্কার রাখতে এবং পথচারীদের ব্যবহারের জন্য বসানো হয়েছিল আধুনিক বর্জ্য বিন। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ বিন চুরি হয়ে গেছে। কিছু ভেঙে একপাশে পড়ে আছে।

প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কুড়িল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিশাল ডিজিটাল টেলিভিশন বা এলইডি স্ক্রিন। প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি স্থাপন করা হলেও উদ্বোধনের পর থেকে ধীরে ধীরে সবগুলো বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বোর্ডগুলো ধুলোবালিতে ধূসর হয়ে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এ ছাড়া সড়কের বিভাজক ও দুই পাশে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে লাগানো হয়েছিল বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো লাগানোর পর নিয়মিত পানি দেওয়া বা মালীদের দিয়ে তদারকি করা হয়নি। ফলে অনেক মূল্যবান গাছ ইতোমধ্যে শুকিয়ে মারা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights