অবারিত স্বাধীনতাই পরাধীন করছে

জাতি ঘৃণাভরে স্মরণ করেছে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রিকে। এটি শুধু একটি রাত ছিল না, ছিল একটি গণহত্যার রাত। নিরস্ত্র মানুষের ওপর সশস্ত্র পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। নারী-শিশুসহ অসংখ্য মানুষের রক্তে ঢাকা শহর ভেসে গিয়েছিল। সেই রক্তের স্রোত ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে, ৩০ লাখ জীবন ও অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। মহামূল্যবান সেই স্বাধীনতা আমরা ৫৫ বছর ধরে ভোগ করছি। বারবার হোঁচটও খাচ্ছি। কখনো কখনো মনে হয় ৫৫ বছর বয়সি স্বাধীনতা পোলিও রোগে আক্রান্ত। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবই আছে কিন্তু পায়ে জোর নেই। দৌড়াতে গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। অঙ্কের হিসাবে বয়স হলেও সাবালক হতে পারেনি। স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধারা অপমানিত হচ্ছেন। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিগত লোভলালসার তাড়নায় কোনো কোনো মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতাবিরোধীদের আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সেই একাত্তরে স্বাধীনতাবিরোধীদের দল বিস্ময়কর সাফল্য নিয়ে আজ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলে সগৌরবে বসেছে। এই অবারিত স্বাধীনতাই আমাদের ধীরে ধীরে আরও বেশি পরাধীন করে তুলছে।

ব্রিটিশ শাসন অবসানে ভারতবর্ষের মানুষকে প্রায় ২০০ বছর আন্দোলন এবং রক্ত ঝরাতে হয়েছে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের মাধ্যমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। প্রথমে তারা বাণিজ্য শুরু করে। ১৮৫৮ সালে সরাসরি ব্রিটিশ সরকার শাসন করতে শুরু করে। ব্রিটিশদের তাড়াতে প্রথম প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ শুরু হয় ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের মাধ্যমে। সেই বিদ্রোহে সফলতা অর্জিত না হলেও তা ব্রিটিশ সিংহাসনে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিল। তখন তারা আরও বেশি পাকাপোক্তভাবে থাকার জন্য মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যে স্থায়ীভাবে হিংসাবিদ্বেষ সৃষ্টির পথ বেছে নেয়। সে কারণেই তারা ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি প্রয়োগ করে। সিপাহি বিদ্রোহের এক বছর পর শুরু হয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। গঠন করা হয় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস। তার পর থেকে আস্তে আস্তে স্বাধীনতা আন্দোলন জোরদার হয়। এরপর শুরু হয় অহিংস আন্দোলন ও গণজাগরণ। ১৯২০ সালে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন, ১৯৩০ সালে শুরু হয় আইন অমান্য আন্দোলন এবং ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলন। এভাবে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় অবশেষে ১৯৪৭ সালে তারা ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

যে ধর্মীয় বিদ্বেষের বীজ ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে বপন করেছিল, সেই ধর্মকে প্রাধান্য দিয়েই ভারতবর্ষ ছাড়ার আগে পাকিস্তান ও ভারতকে ভাগ করে দিয়ে যায়। অর্থাৎ দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষকে ভাগ করে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি রাষ্ট্র্রের জন্ম দেওয়া হয়। হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়কে আলাদা ‘জাতি’ হিসেবে ধরে পাকিস্তান-ভারত ভাগ করা হয়। মুসলমানদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তোলেন গুজরাটি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে পাকিস্তান গঠনের পরিকল্পনা করা হয়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয় পশ্চিমে-পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান এবং পূর্বে-পূর্ববাংলা। অন্যদিকে এ বিভাজনের বিরোধী ছিলেন কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং সরদার বল্লভভাই প্যাটেল। শেষ পর্যন্ত দ্বিজাতিতত্ত্ব ও রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যস্থতা করেন ভারতে তখনকার ব্রিটিশ প্রতিনিধি, ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন। ১৯৪৭ সালের আগস্টে কার্যকর হয় দুই স্বতন্ত্র রাষ্ট্র। ১৪ আগস্ট পাকিস্তান ও ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস নির্ধারিত হয়।

সবচেয়ে বড় কথা-রাজাকার, আলবদর, আলশামস যখন যে বর্ণই ধারণ করুক না কেন, তাদের পরিচয় হলো তারা স্বাধীনতাবিরোধী। তাদের ব্যাপারে তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, দুধকলা দিয়ে সাপ পুষলেও সুযোগমতো সাপ ছোবল মারবেই
মন্‌জুরুল ইসলামকিন্তু পাকিস্তানি শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানকে নিজেদের করদ রাজ্য মনে করে শাসন করতে থাকে। সেই সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও সামরিক দমনপীড়ন চলতে থাকে। সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল ভাষার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা। সেই থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষাপ্রেমী মানুষ গর্জে ওঠে। স্বাধীনতার মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় বাঙালির বুকে গুলি চালায় পাকিস্তানি পুলিশ। ভাষা রক্ষার দাবিতে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ হন রফিক, সালাম, বরকতসহ আরও কয়েকজন বীর। ওই দিনই পাকিস্তান ভেঙে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার বীজ রোপিত হয়েছিল। তার পর থেকে চলতে থাকে ধারাবাহিক আন্দোলন এবং বাড়তে থাকে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙালির ক্ষোভ ও ঘৃণা। সবশেষ ঘটনাটি ঘটে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে। বাঙালিদের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করার পরও মেনে নেয়নি পাকিস্তানি শাসক। পশ্চিম পাকিস্তান ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে। অবশেষে পাকিস্তানিরা গণতন্ত্রকে বলি দিয়ে গণহত্যার পথ বেছে নেয়। ২৫ মার্চ রাতে শুধু গণহত্যা নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানকেও পাকিস্তানিরা গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। তাঁর অবর্তমানে রাজনৈতিক নেতা, বাঙালি সামরিক অফিসার, জওয়ান, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ সে যুদ্ধে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করার মতো কোনো রাজনৈতিক নেতা তখন ছিলেন না। দিশাহারা জাতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসের প্রতীক হয়ে তখন সামনে আসেন মেজর জিয়াউর রহমান। তিনি তখন বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করেন, ‘আমি মেজর জিয়া বলছি। আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।’ সেদিন মেজর জিয়ার এ ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষকে অসীম সাহসী করে তুলেছিল এবং পাকিস্তানিদের আত্মবিশ্বাসে বজ্রপাতের মতো আঘাত হেনেছিল। মেজর জিয়ার ঘোষণার পর সারা দেশে শুরু হয় সর্বাত্মক মরণপণ যুদ্ধ। সামরিক-বেসামরিক, নারী-পুরুষ, কৃষক, ছাত্র নানা পেশাজীবী এই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে বাঙালিদের বিরুদ্ধে, পাকিস্তানিদের পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এ দেশেরই কিছু কুলাঙ্গার। তারা সংগঠিত করে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী। অবশেষে ৯ মাসের যুদ্ধে অনেক রক্তের বিনিময়ে, অগণিত মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীন হয় বাঙালির জন্মভূমি বাংলাদেশ। ৩০ লাখ জীবনের দামে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পাকিস্তানের স্বাধীনতার মাত্র ২৪ বছরের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান বাঁধন ছিঁড়ে জন্ম হলো স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

২০২৬ সালে ২৫ মার্চ সেই গণহত্যার দিনটি যখন আমরা স্মরণ করি, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেদিনের মেজর জিয়ার উত্তরাধিকার তারেক রহমান। দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না, এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনো ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যার প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাণীতে আরও বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ৫৫ বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখনো আমরা স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ভোগ করতে পারলাম না। বাংলাদেশি জাতি বারবার দেশীয় শোষক ও স্বৈরাচারদের দ্বারাই প্রতারিত হয়েছে। ৫৫ বছরে ১৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু জাতির প্রকৃত সুখ এলো না। যে দুই কিংবদন্তি পুরুষ স্বাধীনতা অর্জনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে আমরা রক্ষা করতে পারলাম না। তাঁদের মৃত্যুকে সাদাচোখে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এর পেছনেও আছে স্বাধীনতাবিরোধীদের বড় ধরনের চক্রান্ত। স্বাধীনতাবিরোধী শুধু এ দেশের রাজাকার, আলবদর, আলশামস নয়, যারা তাদের প্রভু ছিল তারাও আমাদের স্বাধীনতা অথবা স্বাধীনভাবে পথচলাকে মানতে পারেনি। সে কারণেই স্বাধীনতার নায়কদের আমরা হারিয়েছি। স্বাধীনতাযুদ্ধ বা যুদ্ধের আগে-পরে রাজনৈতিক নেতাদের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে নানা আলোচনা থাকতেই পারে। তাই বলে কাউকে ছোট করে দেখা সমীচীন নয়। অতীতে বাংলাদেশে যে মতের বা আদর্শের যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারাই নিজেদের মতো করে ইতিহাস লিখেছে। সে কারণে এখনো আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা বা স্বাধীনতার-পরবর্তী ৫৫ বছরের নির্মোহ ইতিহাস লেখা হয়নি। আমরা লিখতে পারিনি। দেশের রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের মহিমান্বিত করতে গিয়ে ক্রমাগত অন্যকে ছোট করেছেন। আর ইতিহাসবিদরা ব্যস্ত থেকেছেন ক্ষমতার তোষামোদে। চাটুকার ইতিহাসবিদরা ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত এক রকম করে ইতিহাস লিখেছেন। ’৭৫ সালের পর থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত আরেক রকম করে ইতিহাস লিখেছেন। এরশাদের সামরিক শাসনে ইতিহাস হেঁটেছে উল্টো পথে। কারণ এরশাদ ছিলেন পাকিস্তানফেরত অফিসার এবং পাকিস্তানে সামরিক আদালতের বিচারক। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসকে ইতিহাসের গতিতে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তিনিই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের শাসনামলে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার বন্দনা ছাড়া কোনো ইতিহাস লেখা হয়নি। বিশেষ করে স্বৈরশাসনের ১৬ বছরে শেখ মুজিব, শেখ পরিবার ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে পরিমাণ ইতিহাস এবং গুণকীর্তনের বই লেখা হয়েছে, আগামী ১০০ বছরে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার নিয়ে এত বই লেখা হবে কি না, সন্দেহ।

অনেক রক্তের বিনিময়ে চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর একটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রী। ১৭ বছর নির্বাসনে থেকে তিনি তিলে তিলে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় মহান আল্লাহ তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে নতুন জীবন দান করেছেন। তিনি নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিংহভাগ সময়ের বিনিময়ে বুঝেছেন স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান হিসেবে তাঁকে কতটা মূল্য দিতে হয়েছে। সে কারণে তারেক রহমানকে এখন শত্রুমিত্র চিনতে হবে। তোষামোদকারীদের কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া বা জিয়া পরিবার নিয়ে ভুঁইফোঁড় লেখক বা ইতিহাসবিদদের নিবৃত করতে হবে। স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস রচনা করতে হবে। যার যা প্রাপ্য সম্মান, তাকে তা দিতে হবে। অন্যকে সম্মানিত করলে নিজে সম্মানিত হয়। সবচেয়ে বড় কথা, রাজাকার, আলবদর, আলশামস যখন যে বর্ণই ধারণ করুক না কেন, তাদের পরিচয় হলো তারা স্বাধীনতাবিরোধী। তাদের ব্যাপারে তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, দুধকলা দিয়ে সাপ পুষলেও সুযোগমতো সাপ ছোবল মারবেই।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

manju209@yahoo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights