অর্ধশতাব্দী ধরে ঘুড়ি বানান আব্দুর রাজ্জাক, নেই আগের সেই ভিড়

নজরুল মৃধা, রংপুর

রংপুর নগরীতে ৫০ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি বানাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক। নব্বই বছর বয়সি এই ব্যক্তির বাড়ি নগরীর শাহীপাড়ায়। পরিবার পরিজন নিয়ে এখানেই বাস করেন তিনি।

একসময় বৈশাখ এলেই তার বাড়িতে ঘুড়ি কিনতে মানুষের ভিড় লেগে থাকত। এক দশক আগেও বৈশাখে ৫ থেকে ৭ হাজার ঘুড়ি বিক্রি করতেন তিনি। তবে সময় বদলেছে। এখন সেই সংখ্যা কমে প্রায় ২ হাজারে নেমে এসেছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মের মোবাইল ফোন ও গেমে আসক্তিকে দায়ী করেন।

ঘুড়ি তৈরির শুরুর গল্পটাও বেশ সহজ। স্বাধীনতার পর কৌতূহলবশত বাজার থেকে কিছু রঙিন কাগজ কিনে তিনটি ঘুড়ি বানিয়েছিলেন তিনি। সেগুলো দ্রুত বিক্রি হয়ে গেলে উৎসাহ পান। এরপর দিস্তা ও পরে রিম হিসেবে কাগজ কিনে নিয়মিত ঘুড়ি তৈরি শুরু করেন। ধীরে ধীরে রংপুরজুড়ে ‘রাজ্জাক ভাইয়ের ঘুড়ি’ পরিচিতি পায়।

আব্দুর রাজ্জাক জানান, ফায়ার সার্ভিস মোড়ে একটি কনফেকশনারির দোকান ছিল তার। তবে প্রায় ২০ বছর আগে সেই ব্যাবসা ছেড়ে দেন। চার আনা দামে ঘুড়ি বিক্রি শুরু করেছিলেন, এখন প্রতিটি ঘুড়ি বিক্রি করেন ৫ টাকায়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বয়সের ভারেও দমে যাননি রাজ্জাক। এখনও সাইকেল চালিয়ে বাজারে যান এবং নিয়মিত মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন।

তার বাড়িতে ঘুড়ি কিনতে আসা বাংলা একাডেমির সহ-পরিচালক ও পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবিদ করিম মুন্না বলেন, তার এক ছেলে এক মেয়ে। তারা ঘুড়ির সঙ্গে পরিচিত না। তাদেরকে লাটাই ও ঘুড়ির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই তিনি ঘুড়ি কিনেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights