অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধাক্কা খেল এআই সংগীত
অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার সংগীত শিল্প এখন থেকে সম্পূর্ণরূপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি গানগুলোকে তাদের অফিসিয়াল সংগীতের তালিকায় নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া জেনারেটিভ প্রযুক্তি শিল্পীদের জীবিকার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানোয় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী সোমবার থেকে পুরোপুরি এআই-সৃষ্ট গানগুলো অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এআরআইএ) চার্টে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে, তবে মানুষের হাতে তৈরি এবং এআইয়ের সামান্য সহায়তা নেওয়া কিছু গান নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে। কোনো গান তালিকায় ওঠার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে তা অবশ্যই মানুষের লিখিত হতে হবে এবং মূল কণ্ঠ ও প্রধান বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনাও মানুষেরই হতে হবে।
এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা, যেখানে ম্যাডোনার বিখ্যাত পপ গান ‘লাইক আ প্রেয়ার’-এর একটি এআই সংস্করণ গত ১৬ সপ্তাহ ধরে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ২০-এর তালিকায় অবস্থান করছিল। একজন অস্ট্রেলীয় প্রযোজক এআই-জেনারেটেড ভোকাল এবং ড্রাম ব্যবহার করে গানটি তৈরি করেছিলেন, যা অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ২০ একক গানের চার্টে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। এই ঘটনাটি সংগীত শিল্পে এআইয়ের ভবিষ্যৎ ও প্রভাব নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে। এআরআইএ-এর নির্বাহী প্রধান অ্যানাবেল হার্ড জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বায়নের যুগে সংগীতের পেছনে মানুষের মেধা ও শিল্প সত্তাকে তুলে ধরাই এই নীতি পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য।
একই সাথে এআই-সংক্রান্ত গানগুলো অস্ট্রেলীয় সংগীত শিল্পের মর্যাদাপূর্ণ এআরআইএ অ্যাওয়ার্ডের জন্যও বিবেচিত হবে না। কেবল আইনি ও অনুমোদিত এআই সেবার মাধ্যমে তৈরি গানই এই প্ল্যাটফর্মে গ্রহণযোগ্যতা পাবে, কারণ অনেক সময় শিল্পীদের অনুমতি না নিয়েই তাদের কাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ দ্য ফোনোগ্রাফিক ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক প্রকাশিত নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই বিশ্বজুড়ে সংগীত চার্টে এআই নিষিদ্ধ করার এই বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংগীত বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে মানুষের সৃজনশীলতা রক্ষার একটি চমৎকার প্রয়াস হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
সূত্র: এপি
