অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে নায়ক যারা

অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়, তাও আবার ৯ উইকেটে। স্কোরকার্ড বলছে একটি জয়, কিন্তু এই জয়ের গল্পটা আসলে কয়েকজন ক্রিকেটারের অসাধারণ পারফরম্যান্সের গল্প। শুরুতে বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ভেঙে দেওয়া হাসান মাহমুদ, এরপর ব্যাট হাতে শতক করা তানজিদ হাসান তামিম, দুই ইনিংসেই অবদান রাখা মেহেদী হাসান মিরাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৮৪ রানের ইনিংস খেলা নাজমুল হোসেন শান্ত। চারজনের চার রকম পারফরম্যান্সেই ডারউইনে তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস।

হাসান মাহমুদ, শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে ছিটকে দিলেন

ম্যাচের প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশের জয়ের ভিতটা শক্ত করে দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে নেন ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের একের পর এক সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন তিনি।

শুধু প্রথম ইনিংসেই থেমে থাকেননি হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসেও ১৯ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে নেন আরও ৩ উইকেট। অর্থাৎ দুই ইনিংসে ৯ উইকেট। অস্ট্রেলিয়াকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার পেছনে হাসানের এই পারফরম্যান্স ছিল অন্যতম বড় কারণ।

তানজিদ হাসান তামিম, ইতিহাসের পাতায় শতক দিয়ে

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য শুরুটা সহজ ছিল না। কিন্তু সেই কঠিন পরিস্থিতিতেই নিজের জাত চিনিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ইনিংসে ১৯৭ বল মোকাবিলা করে ১০১ রান করেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও একটি ছক্কা।

তানজিদের শতক শুধু ব্যক্তিগত অর্জন হয়ে থাকেনি। তাঁর ইনিংসের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ পায় ২২৮ রানের লিড।

দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রান তাড়া করতে নেমে ৫ রানেই আউট হন তানজিদ। তবে তার আগেই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে রেখেছিলেন তিনি।

মেহেদী হাসান মিরাজ, ব্যাটে শুরু করে বলে শেষ

বাংলাদেশের জয়ে মিরাজের অবদানটা ছিল অন্যরকম। প্রথম ইনিংসে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করে দলের বড় স্কোরে অবদান রাখেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস নামাতে বল হাতে হয়ে ওঠেন সবচেয়ে কার্যকর বোলার।

৩৩ দশমিক ১ ওভার বল করে ৬৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়নকে সাজঘরে ফেরান তিনি।

ক্যামেরন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া যখন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন মিরাজের স্পিনই তাদের বড় লক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ থেকে দূরে রাখে। শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস।

নাজমুল হোসেন শান্ত, অধিনায়কের ব্যাটে গুরুত্বপূর্ণ ভিত

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অবদানটাও কম নয়। প্রথম ইনিংসে ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন তিনি। তানজিদ হাসান তামিমের শতকের পর বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেন শান্ত।

তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও একটি ছক্কা। তানজিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের স্কোরকে এগিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৮ রানের বড় লিড নেয়।

মুমিনুল ও সাদমান, শেষ কাজটা সারলেন যারা

চার মূল পারফর্মারের বাইরে ম্যাচের শেষ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৪৯ রান করা মুমিনুল দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৩০ রান করেন। অন্যদিকে সাদমান ইসলাম অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে।

তানজিদ দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর এই দুজনই আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় এনে দেন তারা।

একটি জয়, অনেক নায়কের গল্প

ডারউইনের এই জয় তাই শুধু একটি দলীয় সাফল্য নয়, এটি একাধিক ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সের সমন্বিত ফল। হাসান মাহমুদের ৯ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে শুরুতেই নাড়িয়ে দেয়। তানজিদ হাসান তামিমের শতক বাংলাদেশকে এনে দেয় বড় লিডের ভিত। মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট ও বল দুই জায়গাতেই অবদান রাখেন। আর নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের ইনিংস বাংলাদেশের স্কোরকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত সেই পারফরম্যান্সগুলোর ওপর ভর করেই অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights