অস্ট্রেলিয়ার মিউজিক চার্টে এআই-তৈরি গানে নিষেধাজ্ঞা, নতুন নীতিমালা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি মিউজিক চার্টে পুরোপুরি বা প্রধানত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি গান আর জায়গা পাবে না। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, চার্টে স্থান পেতে হলে একটি গানের মূল সৃজনশীল অবদান মানুষের হতে হবে। অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (এআরআইএ) মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। আগামী ৩১ আগস্টের চার্ট থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে, যা প্রকাশ করা হবে ২৮ আগস্ট।

তবে গান তৈরির ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ওপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে না এআরআইএ। কোনো গানের মূল সৃষ্টিকর্ম মানুষের হলে এবং প্রধান কণ্ঠ ও বাদ্যযন্ত্র মানুষের পরিবেশনায় থাকলে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে এআই ব্যবহার করা যাবে। এআরআইএর নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো গানের প্রধান কণ্ঠ, গুরুত্বপূর্ণ বাদ্যযন্ত্রের অংশ কিংবা মূল সৃজনশীল উপাদান এআই দিয়ে তৈরি হলে সেটিকে ‘এআই-জেনারেটেড’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।

নতুন নীতিমালা ঘোষণার আগে অস্ট্রেলীয় ডিজে জশ ফাওয়াজের ম্যাডোনার ‘লাইক আ প্রেয়ার’ গানের একটি সংস্করণ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গানটির ওই সংস্করণ অস্ট্রেলিয়ান ড্যান্স সিঙ্গেলস চার্টের শীর্ষে উঠেছিল। এমনকি ২৪ আগস্ট প্রকাশিত এআরআইএর চার্টেও এটি এক নম্বরে ছিল। পরে গানটিতে এআই ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এলে এর ক্রেডিটে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের তথ্য যুক্ত করা হয়।

এআরআইএর প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হার্ড বলেন, শিল্পীরা ইতোমধ্যে তাদের কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে এআই ব্যবহার করছেন এবং সেই সুযোগ থাকা উচিত। তবে সম্পূর্ণভাবে এআই দিয়ে তৈরি কোনো গানকে মানুষের সৃজনশীলতার সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় না সংগঠনটি।

নতুন নিয়মে কোনো গান চার্টের জন্য অযোগ্য প্রমাণিত হলে সেটি তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে এআরআইএর। প্রয়োজনে আগের চার্টের অবস্থানও সংশোধন করা যাবে। এমনকি অযোগ্য কোনো গান শীর্ষস্থান দখল করে পুরস্কার পেয়ে থাকলে সেই স্বীকৃতি ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এআরআইএর এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রেকর্ডিং শিল্প সংস্থা আইএফপিআইয়ের নতুন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইএফপিআই জানিয়েছে, সরকারি মিউজিক চার্টে স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা গানকে মূলত মানুষের তৈরি হতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিমভাবে স্ট্রিম বাড়ানো বা চার্টের অবস্থান প্রভাবিত করার সন্দেহও থাকা যাবে না।

এর আগে, সুইডেনেও এআই দিয়ে তৈরি একটি গান দেশটির মিউজিক চার্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এআই প্রযুক্তির ব্যবহার সংগীতশিল্পে দ্রুত বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশে মানুষের সৃজনশীলতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের মধ্যে সীমারেখা নির্ধারণের উদ্যোগও জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights