অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতে ভেসে এলো ছয়টি ‘রহস্যময়’ গোলাকার বস্তু

অনলাইন ডেস্ক

সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে সাধারণত ভেসে আসে কাঠ, প্লাস্টিক কিংবা সামুদ্রিক আবর্জনা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ফরেস্ট বিচে একের পর এক ভেসে এসেছে ছয়টি ধাতব গোলক। এগুলো কোথা থেকে এলো এবং আসলেই এগুলো কি, তা জানতে ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি তদন্ত শুরু করেছে।

প্রাথমিকভাবে মহাকাশের আবর্জনা বা রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত হাইড্রাজিন জ্বালানি অবশিষ্ট থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির মহাকাশ প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্পেস জাঙ্ক বিশেষজ্ঞ অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অ্যালিস গোরম্যান জানান, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোতে কোনো পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন নেই। এর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, রকেটের প্রথম বা দ্বিতীয় স্টেজ যখন মহাকাশে পেলোড পৌঁছে দিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে, তখনই এগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে সমুদ্রে পড়েছিল। এগুলো মূলত টাইটানিয়াম অ্যালয় দিয়ে তৈরি হতে পারে। যা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চাপযুক্ত জ্বালানি পাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একে ‘স্পেস বল’ বলা যেতে পারে।

দেশটির ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধার করা বস্তুগুলো এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আতঙ্কের কারণ নেই। তবে সুরক্ষার স্বার্থে অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির দেওয়া নিয়মিত তথ্য ও নির্দেশনার দিকে নজর রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির এক মুখপাত্র বলছেন, প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী এগুলোকে মহাকাশের আবর্জনা বলেই মনে করা হচ্ছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘উদ্ধার হওয়া সন্দেহজনক মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছি। এই ধ্বংসাবশেষের উৎস ও প্রকৃতি শনাক্ত করতে আমাদের টিম কাজ করে যাচ্ছে।’

এদিকে বিশেষজ্ঞ গোরম্যান জানিয়েছেন, এগুলো যদি সত্যিই মহাকাশের গোলক হয়ে থাকে, তবে এগুলোর ভেতরে হাইড্রাজিন নামের একটি অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি অবশিষ্ট থাকতে পারে।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, কুইন্সল্যান্ডের ফায়ার সার্ভিস বিভাগ ইতোমধ্যে পাঁচটি বস্তুকে ড্রামের ভেতর সুরক্ষিত করেছে এবং ষষ্ঠটিকে নিরাপদ করার কাজ করছে।

এদিকে, রহস্যের আবহেও রসিকতার সুযোগ হাতছাড়া করেনি স্থানীয়রা। সৈকতে ধাতব গোলক ভেসে আসার এই ঘটনাকে পুঁজি করেছে ‘ফরেস্ট বিচ টেকঅ্যাওয়ে’ নামের একটি চিপসের দোকান। গ্রাহক টানতে তারা চালু করেছে ‘স্পেস জাঙ্ক স্ন্যাক বক্স’ নামের এক মজাদার অফার। শুধু তাই নয়, দোকানের সামনের চকবোর্ডে গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে, ‘সৈকতে ভেসে আসা অন্য সব জিনিসের মতো নয়, আমাদের এই বক্সের ভেতরের জিনিসগুলো আপনি সহজেই চিনতে পারবেন!’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights