অস্থিরতা দূর করে একাডেমিক কার্যক্রম চালু করাই বড় চ্যালেঞ্জ: ঢাবি উপাচার্য

ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, বিগত সরকারের অপশাসনের কারণে মানুষের মধ্যে একধরনের ক্ষোভ কাজ করছে। তবে দাবির অনিয়ন্ত্রিত বহিঃপ্রকাশ হলে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে। অস্থিরতা দূর করে একাডেমিক কার্যক্রম চালু করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দায়িত্ব গ্রহণ শেষে উপাচার্যের লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আছে। তবে দাবির অনিয়ন্ত্রিত বহিপ্রকাশ হলে কাজ করা যাবে না। একটা বড় সময় অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হলে আমার কার্যকর সময় কমে যাবে। আমাদের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সবার সম্পর্ককে একটা মোটামুটি সহনশীল পর্যায়ে এনে কাজ চালু করতে হবে।
একাডেমিক কার্যক্রম কবে নাগাদ চালু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা একটু পরিস্থিতি দেখি। উঠে পড়ে চেষ্টা করতে থাকব। দীর্ঘদিনের অপশাসনের কারণে আমাদের সমাজ-জাতি চূড়ান্তভাবে বিভাজিত হয়ে গেছে। এখান থেকে একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়াটা একটু কঠিন। যেসব ফৌজদারি অপরাধ সেগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হবে। তবে যতটুকু পারা যায়, আমরা সহনশীলতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব। বর্তমান শিক্ষার্থীরা একটি সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আসছে। ট্রমা মোকাবেলা করে পড়াশোনায় থিতু হওয়া এখন কাজ। এই প্রক্রিয়ায় সবার সহযোগিতা দরকার।

হলগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, হলের বিষয়ে শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বড় পরামর্শদাতা। তাদের সাথে কথা বলতে চাই। তবে ‘নিখুঁত’ বলে কিছু নেই। মোটামোটি গ্রহণযোগ্য কাউকে দিয়ে আমি কাজ শুরু করতে চাই।

গবেষণার বিষয়ে তিনি বলেন, গবেষণার উদ্যোগ বাড়ানো দরকার। এক্ষেত্রে আগের প্রশাসন কিছু ভালো কাজ করেছে। এই ধারাবাহিকতা আমরা যেন বাড়াতে পারি। ইন্ডাস্ট্রি এবং প্রেকটিসিং জগতের সাথে আমাদের সম্পর্ক তৈরি জরুরি। এটা বাড়াতে হবে।

নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কখনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেইনি। দলকেন্দ্রিক রাজনীতিতে আমার কোনো আগ্রহ নেই। এটি আমার জায়গা না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আমাদের সমাজের এবং রাষ্ট্রের বৃহত্তর সিদ্ধান্তের একটি প্রভাব থাকবে। তবে মূল যে আদর্শ, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন’ মধ্যেই তা রয়েছে; মানবিক দুর্বলতা বাদ দিয়ে ন্যয্যতার ভিত্তিতে কাজ করা। বড় মাপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সময় লাগবে। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সমাজের একটি প্রতিষ্ঠান। সমাজ কী চাচ্ছে, তাও বড় বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights