অস্বাভাবিক মশা বৃদ্ধিতে অতিষ্ঠ হালুয়াঘাটের জনজীবন

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর এলাকাসহ ইউনিয়নের সর্বত্র আশঙ্কাজনকভাবে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। মশার কামড়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। শুধু রাতেই নয় দিনের বেলাও বিরামহীনভাবে মশার উপদ্রবে মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশুও স্থির থাকতে পারছেনা।

এদিকে পৌরসভা এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষের মশা নিধনের কথা থাকলেও দেখা মিলছে না মশা নিধনের কোন কার্যক্রম, এ অভিযোগ পৌরবাসীর।
স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, অফিস কক্ষে মশার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন মানুষ। সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়ছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা। মশার কামড়ে ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারছে না। আর কয়েল জ্বলিয়ে পড়তে গেলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
মানুষ ছাড়াও গবাদিপশুর জন্য মশারি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এলাকার অধিকাংশ গোয়ালঘরে মশারি টাঙানো হয়।
স্থানীয়রা জানায়, গেল ৫ অক্টোবর বন্যায় পৌরশহরসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দূষিত বর্জ্য, বিভিন্ন স্থানের জমে থাকা নোংরা পানি এবং যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা জমে থাকায় মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে। আর পৌর এলাকার ডাস্টবিন ও আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোন স্থান থাকায় মশার বিস্তার ক্রমশ বাড়ছেই।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সারাদিন মশার উপদ্রব থাকলেও সন্ধ্যার পরপরই
এই উৎপাত আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে সন্ধ্যায় মশার কয়েল জ্বালিয়ে বা স্প্রে করে শিক্ষার্থীদের পড়তে বসতে হচ্ছে।
গবাদি পশুর ফার্মের মালিকরা বলছেন, বাজার থেকে হরেক রকমের মশা নিধনের ঔষধ ছিটিয়ে দেয়ার পাশাপাশি মশারি কয়েল তো রয়েছে সেইসঙ্গে ধোঁয়াও ব্যবহার করে কোনোক্রমে চালিয়ে যাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় এবারের মশার প্রকোপ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রানেশ পণ্ডিত বলেন, মশা শুধু রক্তই শোষণ করে না। এরা বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবাণু ছড়ায় যা থেকে নাম চিকনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ হয়। মশার হাত থেকে রক্ষার জন্য মশারি ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয় পাশাপাশি বাড়ির আঙ্গিনাগুলো পরিষ্কার রাখা জরুরি।
হালুয়াঘাট পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাত বলেন, পৌরসভায় মশক নিধনের দুটি ফগার মেশিন নষ্ট হয়েছিল। এখন মেরামত করে কাজ শুরু করা হয়েছে। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদুল আহমেদ জানান, আগামী দু’একদিনের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটিকে নিয়ে প্রতিরোধকল্পে আলোচনা করা হবে। সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচার করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে লিফলেট ও প্রচারণার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্নস্থানে মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights