অ্যাপলের ফোল্ডেবল ফোনে থাকছে না ফেস আইডি ও টেলিফটো ক্যামেরা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রযুক্তি বিশ্বের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের বহুল প্রতীক্ষিত বিশেষ ইভেন্টকে সামনে রেখে গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। প্রযুক্তি বাজারে ডিভাইসটি ‘আইফোন আল্ট্রা’ নামে গুঞ্জন ছড়ালেও এর চমকপ্রদ ডিজাইনের পাশাপাশি বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপলের এই নতুন ফোল্ডেবল ফোনটি হবে মূলত একটি বইয়ের মতো ভাঁজ করা বা ‘বুক-স্টাইল’ ডিজাইনের। এটি খোলার পর একটি ছোটখাটো আইপ্যাড বা ট্যাবলেটের মতো বিশাল স্ক্রিন উপহার দেবে, যা ভিডিও দেখা, গেমিং কিংবা মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য দারুণ কিছু হবে বলে দাবি করছে অ্যাপল। আবার ভাঁজ করে রাখলে এটা সাধারণ ফোনের মতোই পকেটে বা হাতের তালুতে সহজে এঁটে যাবে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, অত্যন্ত প্রিমিয়াম ও চড়া দামের এই ডিভাইসে বাদ পড়তে পারে আইফোনের দুটি অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় ফিচার ফেস আইডি এবং ডেডিকেটেড টেলিফটো ক্যামেরা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অত্যন্ত পাতলা ডিজাইনের কারণেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে অ্যাপল। আনফোল্ড বা খোলা অবস্থায় ফোনটি মাত্র ৪.৫ মিলিমিটারের মতো পাতলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ফেস আইডির জন্য ব্যবহৃত ট্রু-ডেপথ ক্যামেরা সিস্টেম বসানোর মতো পর্যাপ্ত থিকনেস ডিভাইসটিতে থাকছে না। এ কারণে ফেস আইডির বিকল্প হিসেবে পাওয়ার বাটনে সাইড-মাউন্টেড ‘টচ আইডি’ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক সুরক্ষার ফেরা হতে পারে। ২০১৭ সালের আইফোন এক্স-এর পর থেকে ফেস আইডিতে অভ্যস্ত ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বড় ধরনের ধাক্কা।

ক্যামেরা বিভাগেও বড় আপসের বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ প্রো বা প্রো ম্যাক্স মডেলগুলোতে জুম করার জন্য শক্তিশালী টেলিফটো লেন্স থাকলেও প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনে কেবল মেইন ওয়াইড এবং আল্ট্রা-ওয়াইড; এই দুটি ক্যামেরা থাকতে পারে। অপটিক্যাল জুম সুবিধার পপেরিস্কোপ লেন্স বেশ খানিকটা জায়গা ও গভীরতা দখল করে, যা অতি-পাতলা এই ফোল্ডেবলে ফিট করা প্রায় অসম্ভব। তবে ভ্রমণ বা দৈনন্দিন ছবি তোলার জন্য এই দুটি সেন্সরই যথেষ্ট হলেও দূরবর্তী কোনো দৃশ্য বা কনসার্টের ছবি তোলার অনুরাগী গ্রাহকরা হতাশ হতে পারেন।

ফোল্ডেবল ডিভাইসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থাৎ ডিসপ্লের ভাঁজ বা ‘ক্রিজ’ কমানোর ক্ষেত্রে অ্যাপল উন্নত মেটাল হিঞ্জ ও স্পেশাল গ্লাস প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যাতে স্ক্রিনের মাঝের দাগ প্রায় অদৃশ্য থাকে। ভেতরে আইপ্যাডের মতো নতুন আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের সুবিধা নিয়ে তৈরি করা ডিভাইসটির বাজারমূল্য শুরু হতে পারে ২০০০ মার্কিন ডলারেরও বেশি থেকে।

সূত্র: খালিজ টাইটমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights