আকাশে দেখা মিলবে ৮টি দুর্লভ মহাজাগতিক দৃশ্য

জুলাই মাসে রাতের আকাশে চোখ রাখলেই মিলবে একে একে ৮টি দুর্লভ মহাজাগতিক দৃশ্য। তারার মেলা, চাঁদ ও গ্রহের যুগল দেখা, এমনকি ছোট গ্রহ প্লুটোকেও দেখা যাবে বিশেষ সময়। অ্যামেচার থেকে শুরু করে পেশাদার মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য সুযোগ।

১ জুলাই:
এই রাতে ‘মেসিয়ার ২২’ (M22) নামের উজ্জ্বল গোলাকার তারাগুচ্ছ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। এটি পৃথিবী থেকে ১০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে এবং খালি চোখে হালকা ধোঁয়ার মতো দেখা যায়। দূরবীন বা ছোট টেলিস্কোপে এই তারাগুচ্ছের হাজার হাজার তারা চোখে পড়ে।

৪ জুলাই:
বৃহস্পতির কাছাকাছি পৌঁছাবে বুধ। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম আকাশে তাকালে দেখা যাবে এই গ্রহটি। মেঘে না ঢাকলে এটি দেখার দুর্দান্ত সুযোগ।

১০ জুলাই:
পূর্ণিমার চাঁদকে এই দিনে বলা হয় ‘বাক মুন’, কারণ এটি সেই সময়, যখন হরিণের শিং নতুন করে গজায়। চাঁদের গাঢ় ছায়া ও উজ্জ্বলতা দূরবীনে চমৎকারভাবে দেখা যাবে।

১৬ জুলাই:
ভোরের আগে দেখা মিলবে এক বিরল দৃশ্যের—চাঁদ, শনি ও নেপচুন থাকবে একসঙ্গে। শনি খালি চোখে দেখা যাবে, তবে নেপচুন দেখতে টেলিস্কোপ লাগবে।

২০ জুলাই:
ভোরের আকাশে দেখা যাবে চাঁদ ও ‘প্লেইয়াডিস’ বা সাত বোন তারার মিলন। একসঙ্গে ঝলমলে তারাগুচ্ছ ও অর্ধচাঁদ দেখে বিমোহিত হবেন নিশ্চয়ই।

২৫ জুলাই:
এই দিনে প্লুটো পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসবে এবং সবচেয়ে উজ্জ্বল দেখাবে। যদিও এটি খালি চোখে দেখা যায় না, তবুও শক্তিশালী টেলিস্কোপে এটি খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

২৯ জুলাই:
চাঁদ ও মঙ্গল একত্রে দেখা যাবে। উজ্জ্বল চাঁদের পাশে লালচে মঙ্গল গ্রহ—রোমাঞ্চকর এক দৃশ্য, যদিও আকাশ পরিষ্কার না থাকলে দেখা কঠিন হবে।

২৯-৩০ জুলাই:
এই রাতে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে ‘সাউদার্ন ডেল্টা অ্যাকুয়ারিডস’ উল্কা বৃষ্টি। প্রতি ঘণ্টায় ২৫টি পর্যন্ত উল্কা পড়তে দেখা যাবে। চাঁদ খুবই ছোট থাকায় আকাশ থাকবে অন্ধকার, যা উল্কা দেখার জন্য আদর্শ সময়।

উপদেশ:
নেপচুন, প্লুটো কিংবা M22 দেখার জন্য দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করুন। সঠিক সময় ও দিক নির্ধারণ করতে অ্যাপ ব্যবহার করুন (যেমন Sky Tonight)। আলোক দূষণমুক্ত জায়গা বেছে নিন যেন আকাশ একদম পরিষ্কার থাকে। সূত্র : এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights