আগামী নির্বাচন কোনোভাবেই সহজ হবে না : শামা ওবায়েদ

অনলাইন ডেস্ক

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনোভাবেই সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু।

রবিবার বিকেলে নিজ নির্বাচনি এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের সালথা সরকারি কলেজের পাশের মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় স্থানীয় গণ অধিকার পরিষদের আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আপনারা দয়া করে ভোট চাওয়ার ব্যবস্থা করুন। জনসাধারণের ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের বার্তা নিয়ে পৌঁছে দিন। পজিটিভ রাজনীতি, ক্যাম্পেইন ও প্রচারণা করতে হবে। কারো বা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধাচরণ করার প্রয়োজন নেই। দলমত নির্বিশেষে সব জনগণের কাছে যেতে হবে আমাদের।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও তাদের প্রতিনিধিরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ প্রত্যেকটি দেশ খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বার্তা দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। এতে প্রমাণিত হয়, তিনি শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতে নয়, সারাবিশ্বের রাজনীতিতে ছিলেন। জনপ্রিয় এই আপসহীন নেত্রী তার সামাজিক কর্ম দিয়ে মানুষের বেঁচে আছেন এবং জনম জনম বেঁচে থাকবেন।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর অমানবিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আমার ছোট ভাইয়ের মতো। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক সবসময় ভালো। তিনি বহুবার নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন। মাসের পর মাস জেল খেটেছেন। কোটাবিরোধী, নিরাপদ সড়ক, ফ্যাসিবাদবিরোধী ও বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিল গণ অধিকার পরিষদ, যা নজর কাড়ার মতো। দোয়া করি, নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে গণ অধিকার পরিষদ আরো সমৃদ্ধ হোক।

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, ৫ মে শাপলা চত্বরে যখন আলেম-ওলামাদের হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছিল, তখন একমাত্র বিএনপির নেতাকর্মীরাই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তখন আমিও ব্যক্তিগতভাবে অনেকের বাসায় গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছিলাম। আমাদের সালথা ও নগরকান্দায় অনেক মাদরাসা ও মসজিদ রয়েছে। অনেক আলেম-ওলামা আছেন। তারা যখনই আমার বাবা মরহুম কেএম ওবায়দুর রহমানের কাছে এসেছেন, তখনই তিনি তাদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, আমিও বাবার মতো আলেম-ওলামা ও মাদরাসা-মসজিদের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বিএনপি সরকার গঠন করলে আলেম-ওলামাদের জন্য নির্দিষ্ট ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি পরিবারের মায়েদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে এবং কৃষকরা পাবে কৃষক কার্ড।

ফরিদপুর জেলা গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্ব ও সালথা উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম মোল্যার সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরীফ, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, সালথা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ, ফরিদপুর জেলা গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ মিয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি হারুনার রশীদ, জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি জুয়েল ভান্ডারী, জেলা যুবঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাইজিদ হোসেন বিপুল প্রমুখ। দোয়া মাহফিল শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights