আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ইরান
অনলাইন ডেস্ক
এই সপ্তাহে তুরস্কের আঙ্কারায় পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সম্মেলনে জোটের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় ছিল ‘হরমুজ প্রণালি’তে স্বাধীনভাবে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি। তবে ইরান এই আলোচনাকে ভালোভাবে নেয়নি।
ইরান এই সম্মেলনকে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ন্যাটোর যে মনোযোগ, তা রাজনৈতিক চাল ছাড়া আর কিছুই নয়।
তুরস্কে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস জানিয়েছে, তাদের দেশের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তেহরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইরনা’ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বজায় রাখার মূল দায়িত্ব ইরানেরই। ওই অঞ্চলে অন্য দেশগুলোর নাক গলানো এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টাই মূলত নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের কড়া সমালোচনা করেছেন। একটি বেআইনি যুদ্ধে সমর্থন দিয়ে ন্যাটো প্রধানের আত্মতুষ্টির সমালোচনা করেন তিনি। ইসমাইল বাগাই বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধে ন্যাটোর সমর্থন তাদের দাসত্বের মানসিকতাকেই তুলে ধরে। এটি এমন এক চাটুকারের মতো আচরণ, যে মনে করে তোষামোদ করলেই রাজার রাগ বা অবজ্ঞা দূর করা যাবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ইরানে যে হামলা চালিয়েছে ন্যাটো প্রধান সেটাতে সমর্থন জানিয়েছেন।
তবে ন্যাটো সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে তাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ন্যাটো তাতে সাড়া দেয়নি।
ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ট্রাম্প তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি ন্যাটোর ওপর খুশি নই। কারণ তারা এক নম্বর সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করতে চায়নি। ট্রাম্প বলেন, তারা আমাদের সাহায্য করতে একেবারেই রাজি ছিল না।
