আজও বাড়ি ফিরছে মানুষ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে সরকারি ছুটি। তার আগের দিন মঙ্গলবার বিকেল থেকেই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ঈদযাত্রা অব্যাহত আছে আজও। সকাল থেকে বাড়ি ফিরছে অনেকেই। ঈদ ঘিরে শেষ মুহূর্তে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ের চিত্র চোখে পড়েছে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে।
শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সকালে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বাস কাউন্টারগুলোতে ঘরমুখো মানুষের বেশ সরব উপস্থিতি। তবে সেটি গত তিনদিনের তুলনায় কিছুটা কম। স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আজও অনেকে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। টার্মিনালে কেউ গাড়ির সন্ধানে ছুটছেন, আবার কেউবা অপেক্ষা করছেন কাউন্টারে।
একই দৃশ্য দেখা গেছে রাজধানীর ধোলাইপাড়ে। মূলত পদ্মা সেতুকেন্দ্রিক গাড়িগুলো সেখানে বেশি চলাচল করায় এ সড়কে এখন যাত্রীচাপ বেশি।
বাস কাউন্টারগুলোতে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে যাত্রীদের বাড়তি চাপ থাকলেও শুক্রবার সকালে যাত্রীচাপ ছিল একেবারেই কম। অনেকে দেরিতে ছুটি পান, কিংবা শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরেন। তারাই মূলত আজ যাত্রা করছেন।
সায়েদাবাদ থেকে বরিশালগামী যাত্রী শামীম পাটোয়ারি বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। অফিসের ছুটি শুরু হয়েছে আজ থেকে। আমাদের অফিস সরকারি অফিসের দুদিন পর ছুটি দিয়েছে। তাই আজ পরিবারে সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। যাচ্ছি দেরিতে আসবোও দেরিতে। মূলত ছুটি পেয়েছি আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত, পরে নিজে আরও দুদিন ছুটি নিয়েছি। তাই আগামী সপ্তাহ পুরোটাই বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবো। তবে এখানে এসে দেখলাম বাস ভাড়া বেশি, আবার গাড়ির সংখ্যাও কম।
বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশালগামী বাস স্টার ডিলাক্সের স্টাফ সাগর জানান, ঈদ ঘিরে ভাড়া একটু বেশিই নিতে হয়। কারণ, আসার পথে গাড়ি পুরোপুরি খালি আসে। তাই আজকে ভাড়া চাচ্ছি ৭০০ টাকা। অন্যান্য সময় কিছুটা কম থাকে। আর এমনিতেও আজকে যাত্রী কম। যারা যাচ্ছে তারা এই ভাড়াতেই যাচ্ছে।
পরিবার নিয়ে ঈদ করতে নোয়াখালী যাচ্ছেন সেলিনা পারভীন। তিনি বলেন, আমরা কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু গাড়ি আসছে না। যেগুলো আসে ভাড়া বেশি চায়। আবার সার্ভিসও ভালো না। তার ওপর যাত্রাবাড়ী পাড় হতেই ঘণ্টা লেগে যায়। আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) ছুটি পেলেও আজ ফাঁকা পাবো সেই আশায় বের হলাম। কিন্তু গাড়ি তো সেভাবে পাচ্ছি না। দেখা যাক কখন গাড়ি পাই।
এদিকে অন্যান্য দিনের মতো আজও রাজধানীর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও ধোলাইপাড়ে ঈদযাত্রীদের জটলা দেখা গেছে। মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশের সরব উপস্থিতি থাকলেও হিমশিম খেতে হচ্ছে শৃঙ্খলা রক্ষায়।
রাজধানীর ধোলাইপাড়ে কথা হয় মো. আব্দুল্লাহ মামুন নামের এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমার বাড়ি খুবই কাছে মাদারীপুরে। গাড়িও খুব এভেইলেবল। এবার ঈদযাত্রায় শুনলাম শহর ছাড়তে পারলে আর যানজট তেমন নেই। যেমন সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড় পার হতেই তো অনেক সময় চলে যাচ্ছে। এসব রাস্তা পাড় হলে আর কোনো সমস্যা নেই। আশা করছি, পরিবারের সঙ্গে সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবো।
