আজমীরগঞ্জ রুহানি পাক দরবার শরীফের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে হামলা

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের দক্ষিন দত্তেরচর গ্রামে আজমীরগঞ্জ রুহানি পাক দরবার শরীফের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গত বছর বকশীগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ রুহানি পাক দরবার শরিফের খাজা ডঃ নাসিউল্লাহ’র আকস্মিক মৃত্যুর পর উক্ত খাজা পরিবারের রেওয়াজ অনুযায়ী দরবার শরীফের পীরের গদ্দিনশীন আসন দখলে নেন তার সহদর ছোট ভাই খাজা তৌহিদুল্লাহ। কিন্তু খাজা তৌহিদুল্লাহ দরবার শরিফের পীরের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চাচা ভাতিজাদের মধ্যে দেখা দেয় দ্বন্দ্ব।

এলাকাবাসীর ধারণা ৬ নভেম্বর সোমবার রাতে মূলত দরবার শরিফে গদ্দিনশীন আসনের ভোগ দখলকে কেন্দ্র করেই খাজা তৌহিদুল্লাহ’র বড় ভাই শাহাদৎ খাজার ছেলে সাইম খাজা তার কয়েকজন অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে চাচা তৌহিদুল্লা’র অফিস কক্ষে হামলা চালায়।

দরবার শরিফে হামলার ঘটনার সংবাদ পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত সময়ের মধ্যে দরবার শরিফে পৌছলে হামলাকারী অভিযুক্ত ভাতিজা সাইম খাজা তার অনুসারীদের সটকে পড়েন। পরে এ বিষয়ে রাতেই খাজা তৌহিদুল্লাহর বড় ভাই অধ্যক্ষ খাজা শাহনেওয়াজ বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ভাতিজা খাজা সাইমসহ নামীয় আসামী ২২ জন। অজ্ঞাতনামা আসামী ৫০-৬০ জন।

জানা যায়, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্টাজোড় ইউনিয়নের দক্ষিন দত্তেরচর গ্রামের আজমীরগঞ্জ দরবার শরীফের পীর সাহেব খাজা নাসিরুল্লাহ প্রায় এক বছর আগে মারা যায়। তিনি মারা যাওয়ার পর দরবারের আশেকান ভক্তদের একাংশের সমর্থনে আজমীরগঞ্জ দরবার শরীফের পীরের গদ্দিনশীন হন তারই ছোট ভাই খাজা তৌহিদুল্লাহ। খাজা তৌহিদুল্লাহ গদ্দীনশীন হওয়ার পর থেকেই তারই ভাতিজা খাজা সাইমও গদ্দীনশীন হওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ দরবার শরীফে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। হয়েছে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস বৈঠকও, কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি।

তৌহিদুল্লাহ খাজার জানান, সোমবার রাতে আজমীরগঞ্জ পাক দরবার শরীফে ভাতিজা সাইমের নেতৃত্বে একদল অনুসারী দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র সহ ৫০-৬০ জন লোক দরবারের ভিতরে প্রবেশ করে ।এ সময় তারা খাজা তৌহিদুল্লাহকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। দরবারে থাকা ভক্তরা বাধাঁ দিলে তারা তাদেরকেও মারধোর করেন। এক পর্যায়ে দরবারের ভিতরে ভাংচুর চালায় এবং আলমারীর তালা ভেঙে নগদ প্রায় ১০ লাখ টাকা,৫ লাখ টাকার স্বর্নের গহনা লুট করে নিয়ে যায়। এতে দরবারের প্রায় ৬০ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন মামলার বাদী শাহনেওয়াজ।

ঘটনার পর হামলার বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত সাইম খাজার মতামত জানার জন্য গণমাধ্যম কর্মীরা দরবার শরিফের ভিতরে সাইম খাজার বাসায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। যার ফলে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত সাইম খাজার মতামত জানা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে অভিযোগের বাদী অধ্যক্ষ খাজা শাহনেওয়াজ জানান,ভাতিজা সাইমের নেতৃত্বেই দরবারে হামলা,ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights