আত্মহত্যার আগে জীবনের সব সঞ্চয় গৃহপরিচারিকাকে লিখে দিয়ে যান অভিনেতা

শোবিজ ডেস্ক
এক দশক আগে তেলেগু চলচ্চিত্রজগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় অভিনেতা রঙ্গনাথের আত্মহত্যার খবরে পুরো বিনোদন শিল্পজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। তবে তার জীবনাবসানের চেয়েও বেশি স্তম্ভিত করেছিল তার জীবনের শেষ ইচ্ছাটি। নিজের সন্তানসহ পরিবারের কারও জন্য কোনো অর্থসম্পদ রেখে না গিয়ে জীবনের পুরো সঞ্চয় এক বিশ্বস্ত গৃহপরিচারিকাকে লিখে দিয়েছিলেন এই প্রবীণ তারকা।

চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার পুরো নাম ছিল তিরুমালা সুন্দর শ্রী রঙ্গনাথ। অভিনয়জগতে প্রবেশের পূর্বে তিনি ভারতীয় রেলেওয়েতে একজন টিকিট সংগ্রাহক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে বিখ্যাত পরিচালক বাপুর পরিচালনায় ‘বুদ্ধিমন্তুদু’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়জগতে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি, যেখানে প্রধান চরিত্রে ছিলেন আক্কিনেনি নাগেশ্বর রাও এবং বিজয়া নির্মলা। এরপর নায়ক হিসেবে ৪০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পর তিনি খলনায়ক ও চরিত্রের গভীরতাযুক্ত বিভিন্ন ভূমিকায় রূপদান শুরু করেন। প্রায় ৪৬ বছরের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি ৩০০টিরও বেশি চলচ্চিত্র এবং অসংখ্য জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে কাজ করেন। ‘জমিদারুগারি আম্মায়ি’, ‘আমেরিকা আম্মায়ি’, ‘পান্তুলাম্মা’, ‘থায়ারাম্মা বাঙ্গারায়্যা’, ‘৩ দিওয়ারিন’, ‘মনমধুডু’ এবং ‘নিজাম’-এর মতো বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে তার সংবেদনশীল অভিনয় আজও দর্শকের মনে অমলিন হয়ে রয়েছে।

সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করলেও ২০০৯ সালে স্ত্রীর বিয়োগে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রঙ্গনাথ। সে সময়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মারাত্মক বিষণ্নতা ও একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তার মেয়ে নীরজা জানিয়েছিলেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পরবর্তী বছরগুলোতে তার বাবা বারবার আত্মহত্যার কথা বলতেন এবং এর জন্য তাকে চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ ও কাউন্সেলিংও দেওয়া হচ্ছিল।

২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৬৬ বছর বয়সে হায়দরাবাদের নিজ বাসভবনে আত্মহত্যা করার আগে রঙ্গনাথ ঘরের দেয়ালে একটি কালো মার্কার দিয়ে কিছু কথা লিখে যান। যেখানে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেই কক্ষের দেয়ালে নিজের পরিবারকে উদ্দেশ করে তিনি নির্দেশ দিয়ে যান, যেন দীর্ঘদিন ধরে তার দেখাশোনা করা সেই পরিচারিকাকে তার সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে দেওয়া হয়। তার দেয়াললিপিতে লেখা ছিল, ‘এটি তাকে দিয়ে দিও, তাকে কোনোভাবে বিরক্ত কোরো না।’ এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিচালনাগত বা পারিবারিক অসন্তোষের অফিশিয়াল কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর আগে তিনি বি দেবদাসসহ বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বিদায় জানিয়ে বিশেষ ‘বিদায়’ বার্তা পাঠিয়েছিলেন।

ঘটনার দিন ১৯ ডিসেম্বর বিকেলে রঙ্গনাথকে শেষবারের মতো দেখেছিলেন তার পরিচারিকা মীনাক্ষী। তিনি রান্না শেষ করে কাজ গুটিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণে একদল লোক তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা কাছেই নিজের পরিবার নিয়ে থাকা রঙ্গনাথের মেয়ে নীরজাকে বিষয়টি জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে অভিনেতার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

মৃত্যুকালে রঙ্গনাথ এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ছেলে ও এক মেয়ে অন্য শহরে বসবাস করতেন। শোকাবহ শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর রঙ্গনাথের সন্তানরা তাদের বাবার শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার নির্দেশ মেনে পরিবারের সবাই তার অর্জিত সমস্ত সঞ্চয় গৃহপরিচারিকা মীনাক্ষীর হাতে তুলে দেন।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights