আমদানিনীতিতে সুবিধা বাড়ছে রপ্তানি খাতের

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

রপ্তানি খাতের জন্য সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া আমদানিনীতিতে। প্রস্তাব কার্যকর হলে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প, জুতা ও চামড়াজাত শিল্প এবং ট্যানারি শিল্প রপ্তানি বাড়াতে অধিক পরিমাণ নমুনা আমদানির সুযোগ পাবে। এর ফলে পণ্য উৎপাদনের লিড টাইম বা সময় কমবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে দ্রুত পণ্য সরবরাহ করা যাবে। নতুন ডিজাইন ও পণ্য বৈচিত্র্যকরণের সুযোগ বাড়বে। উচ্চমূল্যের রপ্তানিপণ্য তৈরির সুযোগ পাওয়া যাবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়বে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত আমদানিনীতি-২০২৬-২৯ এ বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প ক্যাটাগরি প্রতি ৩০টি করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার, রপ্তানিমুখী জুতা ও চামড়াজাত শিল্প সর্বোচ্চ ৩ হাজার জোড়া এবং ট্যানারি শিল্প সর্বোচ্চ ৩ হাজার পিস পাকা চামড়ার নমুনা আমদানি করার সুযোগ পাবে। রপ্তানির উদ্দেশে বিভিন্ন ডিজাইনের পণ্য উৎপাদন, বিদেশি ক্রেতাদের পছন্দ অনুসারে স্থানীয়ভাবে মালামাল উৎপাদনের সুবিধার্থে আমদানিকারকরা পারমিট ছাড়াই এসব নমুনা সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। প্রচলিত আমদানিনীতি অনুযায়ী তৈরি পোশাক শিল্প ক্যাটাগরি প্রতি ১৫টি করে ১ হাজার ৫০০, যন্ত্রচালিত জুতা শিল্প ৫০০ এবং ট্যানারি শিল্প ৩০০ পাকা চামড়ার নমুনা আমদানির সুযোগ পাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর স্যাম্পল বা নমুনা আমদানির প্রক্রিয়া অনেক সহজ। বাংলাদেশ এই নীতি সহজ করায় দেশীয় সুতা এবং পোশাক প্রস্তুতকারকরা বিদেশি ক্রেতাদের তাৎক্ষণিক নমুনা তৈরি করে দেখাতে পারবেন, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেবে। পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে কম কোটার কারণে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ডিজাইনের নমুনা শেষ হয়ে গেলে নতুন করে আমদানির জন্য বিশেষ অনুমতি নিতে হতো। এতে করে কাস্টমসে জটিলতা তৈরি হতো। তৈরি পোশাক খাতে নমুনা পাসের এই কোটা বৃদ্ধি করায় ব্যাক-টু-ব্যাক প্রক্রিয়ায় স্যাম্পল অনুমোদন দ্রুত হবে, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহের সময় কমিয়ে আনবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে সাধারণ ক্যাজুয়াল পোশাক থেকে ব্লেজার, জ্যাকেট, স্যুট এবং বিশেষায়িত টেকনিক্যাল পোশাকের মতো উচ্চমূল্যের পোশাক বাজারে প্রবেশ করছে। এসব জটিল ও দামি পোশাকের অর্ডার নিশ্চিত করার আগে ক্রেতাদের জন্য প্রচুর ট্রায়াল ও স্যাম্পল বা নমুনা প্রস্তুত করতে হয়। তৈরি পোশাকে ৩ হাজার নমুনা আমদানির সুযোগ এই বড় অর্ডারগুলো ধরতে সরাসরি সাহায্য করবে। লিড টাইম বা উৎপাদন সময়ও হ্রাস পাবে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে পোশাকের ফ্যাশন ও ডিজাইন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ক্যাটাগরি ও নমুনার সংখ্যা বাড়ানো হলে দেশীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি বৈচিত্র?্যময় ও নিত্যনতুন ডিজাইনের কাপড় তৈরি করতে পারবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমদানিনীতিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের নমুনা সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাবটি ইতিবাচক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights