আমদানি করা কাঁচা মরিচ কিনছেন না আড়তদাররা, কমছে না দামও
দেশে কাঁচা মরিচের আমদানি বাড়লেও বাজার এখনো উত্তপ্ত। বেনাপোলসহ যশোরের বাজারে আগে ৭০০-৮০০ টাকা কেজিতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হলেও আমদানির খবরে ৩৫০ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু দুদিন না যেতেই আবার ৫০০ টাকা কেজিতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে।
বেনাপোল কাঁচা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, ‘আড়তদের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচা মরিচ কিনছেন না। আগের কেনা কাঁচা মরিচই ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। আমরা তাদের কাছ থেকে যে দামে কিনে আনি, তার থেকে ২-৩ টাকা লাভে বাজারে বিক্রি করি।’
তবে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, নির্বাচনসহ অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে না। তবে দু-একদিনের মধ্যে বাজারে অভিযান চালানো হবে। ভারত থেকে আমদানি বেড়ে গেলে কাঁচা মরিচের দাম অনেকটা কমে যাবে।
এদিকে সবশেষ বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ছয়টি ট্রাকে ৪১ টন কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এর আগে রোববার ৪৫ টন, সোমবার ৪৫ টন ও মঙ্গলবার ৩৩ টন কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। বেনাপোল, ঢাকা ও খুলনার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানরা এসব কাঁচা মরিচ আমদানি করেছেন। কাঁচা মরিচের চালানগুলো দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে চলে যাচ্ছে।
এ বন্দর দিয়ে বেনাপোলের মেসার্স ঊষা ট্রেডিং, ঢাকার এন এস এন্টারপ্রাইজ ও খুলনার এস এম করপোরেশনসহ আরও কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কাঁচা মরিচ আমদানি করছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এতে এখন পর্যন্ত দেশে এসেছে ৫২৮ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ। শুক্রবার (৭ জুলাই) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন বন্দর দিয়ে দেশে এসেছে ৫২৮.৫৮ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ। এর মধ্যে শুধু বৃহস্পতিবারই দেশে এসেছে ৫৪ মেট্রিক টন।
তিনি আরও জানান, দেশে এখন পর্যন্ত ১৪৮টি আইপির বিপরীতে ৫১ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত ৯ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৩ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির বিপরীতে দেশে এসেছে এক লাখ ৫৭ হাজার ১৩ মেট্রিক টন। ৭৮ হাজার ৯০০ টন টমেটো আমদানির অনুমতির বিপরীতে দেশে এসেছে ৩৩০ মেট্রিক টন টমেটো।
এর আগে, দেশের ঘাটতি ও কাঁচা মরিচের ঊর্ধ্বমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ২৫ জুন মরিচ আমদানির অনুমতি দেয়। এর মধ্যে দুদিন আমদানির পর ঈদের কারণে বন্ধ ছিল আমদানি। তবে ঈদের ছুটি শেষে রোববার (২ জুলাই) থেকে আবারও দেশে আসছে আমদানি করা কাঁচা মরিচ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আমদানিকারক বলেন, প্রতিকেজি কাঁচা মরিচের আমদানি মূল্য ২১৫ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩ টাকা ৯৩ পয়সা। কিন্তুু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতি টন কাঁচা মরিচের ট্যারিফ মূল্য বেঁধে দিয়েছে ৫০০ মার্কিন ডলারে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কেজি ৫৫ টাকা ৬০ পয়সা। আমদানিকারকের আমদানির মূল্যের ওপর কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাট আদায় না করে কাস্টমসের বেধে দেওয়া ট্যারিফ মূল্যের ওপর কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাট আদায় করছে ৩২ টাকা ৬০ পয়সা। এতে আমাদের অতিরিক্ত ডিউটি দিতে হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য খরচতো আছেই।
বেনাপোলের আমদানিকারক ঊষা ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, আমদানি হওয়া কাঁচা মরিচ তাদের রপ্তানিকারকরা বনগাঁসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বাজার থেকে সংগ্রহ করেন। আমদানি মূল্য ও কাস্টম শুল্ক, গোডাউন ভাড়া, লেবার খরচ ছাড়াও পরিবহনসহ দুই দেশের অন্যান্য খরচ মিলিয়ে তাদের আরও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। সব মিলিয়ে ঢাকার পাইকারের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত আমদানি করা ভারতীয় কাঁচা মরিচের দাম পড়ে যায় ১৫০-১৬০ টাকার মতো। এর সঙ্গে বাজারের টোল ও সামান্য লাভ যোগ করে পণ্য বিক্রি করেন তারা।
বন্দরের চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার সরকার বলেন, দেশের বাজারে ঈদের আগে থেকে হঠাৎ করে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দিয়েছে। গত চার দিনে বেনাপোল দিয়ে ১৬৪ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ ভারত থেকে আমদানি হয়েছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা কলিমুল্লাহ বলেন, জরুরি ও পচনশীল পণ্য হওয়ায় কাঁচা মরিচের চালানগুলো প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত খালাসের জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, সীমান্তের ওপারে আরও কয়েক ট্রাক কাঁচা মরিচ দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। গত চার দিনে এ বন্দর দিয়ে ১৬৪ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।
