আমাদের পেছনের ৫০টি গাড়ি ভেসে যায়: নেপালে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

অনলাইন ডেস্ক

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছেন তামিলনাড়ুর ২১ তীর্থযাত্রী। কৈলাস মানস সরোবরের পথে তিনটি বাসে প্রায় ৬০ জনের একটি দলের সঙ্গে যাচ্ছিলেন তারা। এর মধ্যে দুটি বাস এখনো নিখোঁজ।

কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেঁচে ফেরা তীর্থযাত্রীরা সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন। তারা জানান, সীমান্তের কাছে হঠাৎ ভূমিধসের পর পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসে প্রচণ্ড পানির স্রোত। পানির সঙ্গে ছিল কাদা ও ধ্বংসাবশেষ। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক যানবাহন স্রোতে ভেসে যেতে শুরু করে।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাসচালক হঠাৎ সবাইকে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন। তখন প্রাণ বাঁচাতে চালকের পাশের জানালা দিয়ে লাফ দেন তীর্থযাত্রীরা। এরপর দৌড়ে একটি পাহাড়ের ওপর উঠে যান তারা।

এক তীর্থযাত্রী বলেন, আমরা চালকের পাশের জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে বের হয়ে পাহাড়ের ওপর উঠে যাই।

পাহাড়ে উঠে তারা কাছের একটি পুলিশ উদ্ধারকেন্দ্রে পৌঁছান। সেখানে পুলিশ সদস্যরা তাদের সহায়তা করেন। পরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় তাদের। তবে পাহাড়ে ওঠার পরও আতঙ্ক কাটেনি। চোখের সামনে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একের পর এক যানবাহন পানির তোড়ে হারিয়ে যেতে দেখেন তারা।

এক তীর্থযাত্রী জানান, তাদের পেছনে অন্তত ২০ থেকে ৫০টি ট্রাক ও গাড়ি পানিতে অদৃশ্য হয়ে যায়। সামনে থাকা শত শত যানবাহনও বন্যার স্রোতে ভেসে যায়। তিনি বলেন, আমাদের গাড়িটি তখন স্থির দাঁড়িয়ে ছিল। আর মাত্র পাঁচ সেকেন্ড থাকলে আমরাও চলে যেতাম। পরে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তীর্থযাত্রীদের কৃষ্ণুলি ঘাঁটিতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তারা কাঠমান্ডু পৌঁছান।

বন্যার কারণে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা শেষ করতে পারেননি তারা। তবে প্রাণে বেঁচে ফেরাকেই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তীর্থযাত্রীরা। একজন বলেন, এটি ছিল দুঃস্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা। আমরা মৃত্যুর মুখে ছিলাম। প্রাণে বেঁচে গেছি।

এদিকে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৭৮ ভারতীয় এখনো নিখোঁজ। আরও ১১ ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজদের অনেকেই বিদেশি পর্যটক। তাদের মধ্যে রয়েছেন পর্বতারোহী ও কৈলাসের পথে যাত্রা করা হিন্দু তীর্থযাত্রী।

এদিকে নেপাল সীমান্তবর্তী তিব্বত এলাকায় নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করেছে চীন। বুধবারের ভূমিধসে সৃষ্ট একটি প্রাকৃতিক জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় চতুর্থ স্তরের জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights