আমিরাতের ইকুইলাইন ফাইন্যান্স ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ ও অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান ইকুইলাইন ফাইন্যান্স। সরকারি গ্যারান্টি, সরকারি অফ-টেক বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় এই অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে মতামত চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি নথি থেকে জানা যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাওয়া এ বিনিয়োগ প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সুনির্দিষ্ট মতামত দ্রুত পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সম্ভাব্য প্রকল্পের একটি তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের মাধ্যমে ইকুইলাইন ফাইন্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহ ইব্রাহিম আল নাসের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আগ্রহপত্র পাঠান।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ বা অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি। এ লক্ষ্যে তাদের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে সরকারপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতেও প্রস্তুত।
চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের শিল্পায়ন, মূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, কৃষি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, সরকার যেসব খাত বা প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেবে, সেগুলোর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কারিগরি, আর্থিক ও ঝুঁকি মূল্যায়ন শেষে অর্থায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
ইকুইলাইন ফাইন্যান্স বলেছে, তারা স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই বিনিয়োগের ভিত্তিতে কাজ করতে চায়। তাই কোন প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে, তা সরকার নির্ধারণ করলেই বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প তালিকায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি, পরিবহন, তথ্য-প্রযুক্তি, পরিবেশ, পর্যটন, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন খাতের বড় বড় প্রকল্প স্থান পেয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উপকূলীয় এলাকায় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ভোলা গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তর, তেল সংরক্ষণাগার, জ্বালানি পরিবহনের ট্যাংকার এবং বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের মতো প্রকল্প রয়েছে।
স্থানীয় সরকার খাতে ভারী যন্ত্রপাতি, সিটি করপোরেশনের বিশেষায়িত যানবাহন, নদী ও ট্যানারির বর্জ্য শোধনাগার এবং বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালিসিস ও ইনকিউবেটর সুবিধা স্থাপন, সরকারি হাসপাতালের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং অব্যবহৃত সরকারি স্থাপনায় ২০০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কৃষিতে আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগার, শস্য সাইলো, দুগ্ধ খামার, মাছ ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, পরিবহন খাতে রেল কোচ, কার্গো জাহাজ, বৈদ্যুতিক বাস ও চার্জিং স্টেশন, তথ্য-প্রযুক্তিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডেটা সেন্টার এবং আবাসন খাতে সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ ও সেনা সদস্যদের জন্য স্বল্পমূল্যের আবাসন নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, বিনিয়োগ প্রস্তাবটি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত পাওয়ার পর সরকার কোন কোন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর প্রকল্পভিত্তিক আলোচনা, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং অর্থায়নের শর্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।
ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের গত ৪ জুনের নোট ভারবালে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে চায় ইকুইলাইন ফাইন্যান্স। তবে সম্ভাব্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি গ্যারান্টি নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। দূতাবাস আশা প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশ সরকার প্রস্তাবটি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে।
