আমি কীভাবে ‘ভাই ব্যবসা’ করলাম— প্রশ্ন মীর স্নিগ্ধের
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই আন্দোলন চলাকালে গুলিতে শহীদ হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর নব গঠিত জুলাই ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব নেন তার জমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। পরে যোগ দেন বিএনপিতে। স্নিগ্ধ সামাজিক মাধ্যমে নানা সময়েই সমালোচনার কবলে পড়েন। যেসব কথা দিয়ে স্নিগ্ধকে আক্রমণ করা হয়, তার অন্যতম একটি হলো ‘ভাই ব্যবসা।’
আর এই বিষয়টি নিয়ে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্নিগ্ধ লেখেন, “ভাই ব্যবসায়ী” এই টার্মটা আসলে কীভাবে জাস্টিফাই হয়? নিজের একটা সাজানো–গোছানো জীবন ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, কোনো কিছুর অভাব ছিল না। একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলাম। ছাত্রজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ থেকে শুরু করে হাতখরচ, নিজের শখ–আহ্লাদ, সবই আলহামদুলিল্লাহ নিজের উপার্জিত টাকায় পূরণ করেছি। নিজের বাইকসহ জীবনের অনেক স্বপ্নই নিজের টাকায় বাস্তবায়ন করেছি। এরপর এলো জুলাই ২০২৪। নিজের ভাইকে হারালাম। শত হুমকির পরও “মুগ্ধর পানি লাগবে” ভিডিওটি প্রকাশ করে পুরো বিশ্ববাসীর কাছে বিচারের দাবি জানাই, যা জুলাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল। বিচারের আশায় বড় ভাইসহ কোর্ট, থানা, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে পায়ের চপ্পল ক্ষয়ে গেছে। ব্যাংক, অফিস—সব জায়গায় নিজে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ মুগ্ধর হত্যার সব প্রমাণ সংগ্রহ করেছি।
তিনি আরও লেখেন, দেশের বাইরে পড়াশোনা করে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ ছেড়ে দিয়ে, মুগ্ধর মতো আরও যারা শহীদ হয়েছেন এবং জুলাইয়ে আহত হয়েছেন, তাদের জন্য কাজ করতে বিনা পারিশ্রমিকে জুলাই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হই। আমি একা ছিলাম না, ছাত্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের আরও পরিচিত মুখ এই ফাউন্ডেশনে যুক্ত ছিলেন। সবাই মিলে সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি।
