আরও ৮ ইসরায়েলি জিম্মি ও ৩০ ফিলিস্তিনি বন্দি বিনিময়

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিন বৃহস্পতিবার আরও ৮ ইসরায়েলি জিম্মি ও ৩০ ফিলিস্তিনি বন্দিময় হল। দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ একদিন বাড়ানোর পর এই বন্দিদের বিনিময় করল হামাস ও ইসরায়েল।

চুক্তির শর্তানুযায়ী, প্রতি ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে তিনজন ফিলিস্তিনি বন্দি ছেড়ে দেওয়ার কথা। সে হিসেবে ৮ জিম্মির বিপরীতে ২৪ জন ছেড়ে দেওয়ার কথা। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ জানিয়েছে, আগের দিন অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি ষষ্ঠ দিনে তালিকার বাইরে দু’জন রুশ-ইসরায়েলি জিম্মি ছেড়ে দিয়েছিল হামাস, তাদেরকে সপ্তম দিনের তালিকায় অন্তভুর্ত করা হয়েছে। ফলে ইসরায়েল চুক্তি অনুযায়ী, সপ্তম দিনে আরও ৩০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নির্বিচারে বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এর মধ্যেই ২৮ অক্টোবর থেকে অবরুদ্ধ ওই উপত্যকায় স্থল হামলাও শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ইতোমধ্যে এই যুদ্ধে সেখানে ১৫ হাজার আট শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।
টানা ৪৮ দিন যুদ্ধ শেষে গত ২৪ নভেম্বর থেকে চার দিনের সাময়কি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল। এরপর প্রথম দফায় দুদিন বাড়ানোর হয় সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। দ্বিতীয় দফায় আরও একদিনের জন্য সামিয়ক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকাল এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল।

এদিকে, এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে হামাস ও গাজার অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো ৮০ ইসরায়েলি এবং যুদ্ধবিরতি কাঠামোর বাইরে থাকা অন্যান্য জাতীয়তার আরও ২৮ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। আর ইসরায়েল থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৪০ জনে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীর যোদ্ধারা। এতে ইসরায়েলে এক হাজার দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়। ওই দিন ২৪০ জনের বেশি ইসরায়েলি ও বিভিন্ন দেশের নাগরিককে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে আসে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর যোদ্ধারা। সূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights