আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্যে ছিল পাকিস্তান?

অনলাইন ডেস্ক

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামছে। আটলান্টায় সেমিফাইনালের মহারণে লিওনেল মেসির দলের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। আলবিসেলেস্তেদের সামনে এখন চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার হাতছানি। তবে ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯৭৮ সালে ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনা যখন তাদের প্রথম বিশ্বকাপটি জিতেছিল, তখন নেপথ্যে জড়িয়ে ছিল এক অদ্ভুত পাকিস্তানি সংযোগ। আর্জেন্টিনার সেই প্রথম ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ের পেছনে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল পাকিস্তানের হকি দল।

১৯৭৮ সালের জুন মাসে আর্জেন্টিনায় বসেছিল ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। কিন্তু তার ঠিক তিন মাস আগে অর্থাৎ মার্চ মাসে দেশটির মাটিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল হকি বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য আক্রমণাত্মক শৈলী আর ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের মেলবন্ধনে শিরোপা জিতে নিয়েছিল পাকিস্তান। পাকিস্তানি হকি দলের সেই চোখধাঁধানো রণকৌশল গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল তৎকালীন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কোচ সিজার লুইস মেনোত্তিকে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ১৯৭৮ সালের পাকিস্তান হকি দলের জয়ী অধিনায়ক ইসলাহুদ্দিন সিদ্দিকী সেই রোমাঞ্চকর স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পুরো আর্জেন্টিনা যখন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় বুঁদ, তখন তাদের ফুটবল কোচ মেনোত্তি পাকিস্তানের খেলার ধরন দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে পাকিস্তান দল প্রতিপক্ষের জালে গোল করেছিল রেকর্ড ৩৩টি। পাকিস্তানের এই অপ্রতিরোধ্য ফর্মুলা বুঝতে খোদ মেনোত্তিই দলটির সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচ শেষে মেনোত্তি পাকিস্তান দলের খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের মুখোমুখি হন। নেদারল্যান্ডস, ইতালি বা ব্রাজিলের মতো ফুটবল পরাশক্তিদের বধ করার ছক খুঁজছিলেন এই আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড। পাকিস্তানি অধিনায়ক সিদ্দিকী তাকে বুঝিয়ে বলেন তাদের ৫-৩-২-১ ফরমেশনের কার্যকারিতা। যেখানে পাঁচজন ফরোয়ার্ড, তিনজন হাফ-ব্যাক এবং দুজন ফুল-ব্যাক নিয়ে দল সাজানো হতো। এই কৌশলের মূল শক্তি ছিল, দলের রক্ষণভাগকে কোনোভাবে দুর্বল না করেই প্রতিপক্ষের ওপর অল-আউট আক্রমণ চালানো যেত। এটি মাঠের ফাঁকা জায়গাগুলো নিখুঁতভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করত, যা সামলাতে প্রতিপক্ষকে হিমশিম খেতে হতো।

মেনোত্তি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পাকিস্তানের এই কৌশল বিশ্লেষণ করেছিলেন। যদিও পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা তখন কল্পনাও করতে পারেননি যে তাদের হকির চাল ফুটবল মাঠে প্রয়োগ করা হবে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে দেখা গেল ঠিক উল্টো চিত্র। এই রণকৌশল দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে ১৫টি গোল করে আর্জেন্টিনা। আর ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েই নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে তারা। কাকতালীয়ভাবে, হকি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানও এই ডাচদের হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights