আর্থিক সংকটে চ্যালেঞ্জে সংস্কার

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) চলতি অর্থবছরে আপৎকালীন সড়ক মেরামতে বরাদ্দ রাখছে ২২ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি মাসের প্রথম আট দিনের বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নগরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৪৮ কোটি টাকা। বরাদ্দের প্রায় ১৬ গুণ বেশি টাকা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করেছে কর্তৃপক্ষ। আর্থিক সংকটের এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে তাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নগরের প্রধান সেবা সংস্থাটি। তবে সড়ক সংস্কারে জরুরি ভিত্তিতে চসিক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে ২৫০ কোটি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ চেয়েছে। এ নিয়ে চসিক গত ১৫ জুলাই দুই মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।

জানা যায়, গত ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে নগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা হয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নগরের সড়কগুলো। পানি নেমে যাওয়ার পর চসিকের প্রকৌশল বিভাগ মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা করে। তালিকা মতে, এবারের প্রবল বৃষ্টিতে নগরের ১৯৬ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়। এসব সড়ক সংস্কারে চসিক প্রাথমিকভাবে ৩৪৭ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে হিসাব করেছে। কিন্তু সংস্থাটির ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আপৎকালীন সড়ক মেরামতে (প্যাচওয়ার্ক) বরাদ্দ আছে ২২ কোটি টাকা। বৃষ্টিতে নগরের অধিকাংশ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন, ইট, বালু ওঠে গেছে। তৈরি হয়েছে ছোটবড় গর্ত। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগ বলছে, পানি বিটুমিনের শত্রু। বিটুমিন দিয়ে তৈরি করা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেলে নষ্ট হয়ে যায়। সড়কে পানি জমে থাকলে এবং এর ওপর দিয়ে ভারী গাড়ি চলাচল করলে সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। চসিকের নিজস্ব অর্থায়নে নিয়মিত মেরামত কাজ শুরু করা হবে। কিছু সড়ক প্রকল্পের মাধ্যমেও সংস্কার করা হবে। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল আমীন বলেন, টানা বর্ষণে নগরের প্রায় ১৯৭ কিলোমিটার সড়ক নষ্ট হয়। এগুলো সংস্কারে আনুমানিক ব্যয় হবে ৩৪৮ কোটি টাকা। তবে দুই মন্ত্রণালয়ের কাছে ২৬০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম বলেন, টানা বর্ষণে নগরের অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রুটিনওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থাকে সচল রাখতে দুই দিন ধরে সড়ক সংস্কারকাজ চলছে। ইট-কংক্রিট দিয়ে গর্ত ভরাট করে মেরামত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিটুমিন মিক্সার প্ল্যান্টও চালু করা হয়েছে। এটি দিয়ে সড়ক প্যাচওয়ার্কের কাজ চলছে। তা ছাড়া সব সড়ক সংস্কারে মন্ত্রণালয়ের কাছে বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরে ১ হাজার ৪৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৩ হাজার ৪৫৯টি সড়ক আছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে অ্যাসফল্ট সড়ক আছে ১ হাজার ৭৫০টি, ৩৬৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে কংক্রিট সড়ক আছে ১ হাজার ৪২৭টি, ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ব্রিক সলিং রোড আছে ১৪১টি এবং ১৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে কাঁচা সড়ক আছে ১৪১টি। প্রতি বছর চসিকের বাজেটে এসব সড়ক মেরামতে একটি বরাদ্দ রাখে। চলতি অর্থ বছর (২০২৬-২৭) বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২২ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২৬ কোটি টাকা, খরচ হয়েছিল ৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২৪ কোটি টাকা, খরচ হয়েছিল ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২৬ কোটি টাকা, খরচ হয়েছিল ১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights