আসছে বাঁচা-মরার লড়াই
বিশ্বকাপ ফুটবল এগিয়ে চলছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে দলগুলোর দুশ্চিন্তা। গ্রুপ পর্ব তো প্রায় শেষ হওয়ার পথে। এরপরই শুরু হয়ে যাবে শীর্ষ বত্রিশে বাঁচা-মরার লড়াই। ৪৮ থেকে ৩২, এরপর ১৬, আট, চার ও ফাইনালের লড়াই। ভাবনা ছিল কোনো চ্যাম্পিয়ন দল না গ্রুপ পর্ব খেলে বিদায় নেয়। সেই শঙ্কাটা দেখছি না। উরুগুয়ে ছাড়া বাকি চ্যাম্পিয়নদের নকআউট পর্বে জায়গা পাওয়াটা নিশ্চিতই বলা যায়। আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র এখনই শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে। স্পেন, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, জাপানের পথ পরিষ্কার বলা যায়। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না রানার্সআপ হবে তা আজই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। ব্রাজিলের সমর্থকরা কিছুটা চিন্তায় থাকলেও আমার মনে হয় অন্তত গ্রুপে তৃতীয় হয়ে নকআউট পর্বে খেলবে। মরক্কোকেও ৩২-এ রাখতে চায়। গ্রুপ পর্ব শেষের পর ২৯ জুন মাঠে গড়াবে শেষ ৩২। মূলত আসল বিশ্বকাপ শুরু হবে সেদিন থেকে। এখানে আর ড্র নেই। সামনে এগিয়ে যেতে হলে জিততেই হবে। হারলে সামনের বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এসে যাচ্ছে টিকে থাকার লড়াই। তাই চ্যাম্পিয়ন, ফেবারিট বা যাদের কথা বলি না কেন, সমর্থকদের ঘুম হারাম। ৩২-এ কে কার সঙ্গে খেলবে তা ঠিক হয়নি। অনুমান করা যায়। তবে চূড়ান্ত নয়। এখানে যদি বেঁচেও যায় শেষ ১৬ থেকেই কাঁপুনি শুরু। এ রাউন্ডে যেমন কোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বাদ পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তেমনি ফেবারিটদেরও দৌড় শেষ হয়ে যেতে পারে।
সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানিদের ধরা হলেও এদের তো আগে টিকে থাকতে হবে। ৩২-এ হয় তো তেমন ঝামেলা হবে না। রাউন্ড সিক্সটিন থেকে লড়াইটি মৃত্যুকূপে পরিণত হবে। নকআউট পর্ব মানে ভয়ংকর লড়াই। এখানে কে যে জেতে কে হারে বলা মুশকিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফল নিষ্পত্তি না হলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট তার পর টাইব্রেকার। এখানে কোনো ক্যারিশমা কাজ করে না। ভাগ্য কাজ করে। সুতরাং বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ভাগ্য কার দিকে ঘোরে, সেটাই বলা কঠিন। যেটাই হোক, আমার মনে হয় নতুন নয়, শেষ পর্যন্ত পুরোনোদের মধ্যেই কেউ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে। কে হবে এটা তো বলা যাবে না।
