আসুন শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই

ঝুমা আক্তার

কুয়াশার চাদর গাঁয়ে দিয়ে যখন প্রকৃতিতে শীতের আগমন ঘটে।তখন একশ্রেণির মানুষের জন্য শীত ঋতু আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। সকলে মেতে ওঠে পিঠা উৎসব, নতুন জামা পরিধান ও খেলাধুলার মাধ্যমে শীতকে উপভোগ করতে।

অন্যদিকে উপভোগ্য শীতঋতুতে রাস্তা-ঘাটে, গ্রামে -গঞ্জে, ফুটপাতে, ফ্লাইওভারের নিচে, গাছতলায় শীতার্ত জনসাধারণ দিনকাল যাপন করে তীব্র কষ্টের মধ্যে দিয়ে। যেখানে দুবেলা দুমোঠো খাবার জোগাতে পারে না সেখানে শীত বস্ত্র ক্রয় করা তাদের কাছে বিলাসিতা বটে। ফলে তারা না পারে শান্তিতে ঘুমাতে, না পারে ঠিকমতো কাজ করতে, না পারে ঠিকমতো আহার করতে। এমনকি তীব্র শীত তাদেরকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের তীব্র শীতের কারণে বহু ছিন্নমূল জনসাধারণ মৃত্যুর কূলে ঢলে পড়েন।

রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব নাগরিকের ছয়টি মৌলিক অধিকার (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, চিত্তবিনোদন) পূরণ করা।

খবরেরর কাগজে চোখ রাখলেই দেখা যায় শত শত প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা। যেমন স্বপ্নের পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল,এলিভেটেড এক্সপ্রেস ইত্যাদি। এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন যখন আমাদের সাহস জোগায় বিশ্ব পরিমন্ডলে মাথা উঁচু করে পরিচয় দিতে। ঠিক তখনই রাস্তার পাশে অসহায় শীতার্ত মানুষদের দেখে মনের অজান্তেই এত এত উন্নয়ন ঠিক ততটাই নিরাশ করে।

তবে রাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয় এই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। প্রত্যেকটা সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য হাত বাড়িয়ে দেওয়া। শীতের পোশাক থাকা সত্ত্বেও নতুন আরেকটি পোশাক কেনার আগে আমাদের উচিত অসহায় মানুষদের শীতকষ্ট অনুভব করা। যদি তাও সম্ভব না হয় পুরনো জামা দান করে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

এছাড়া শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানি, টনসিলাইটিস, যক্ষা, সাইনোসাইটিসসহ দেখা দেয় বিভিন্ন রোগ। স্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর পক্ষে চিকিৎসা ব্যয়বহন করা সম্ভব হলেও নিম্নশ্রেণির অসহায় মানুষদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করা। তাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বিত্তবানদের পক্ষ থেকে দরিদ্রের জন্য হাত প্রসারিত করতে হবে। এর পদক্ষেপ হিসেবে গ্রামে গঞ্জে, শহরের বস্তিতে, পাহাড়ি অন্ঞ্চলে ক্যাম্প করে দরিদ্রলোকদের জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে হবে এবং হাসপাতালগুলোতে সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসা ব্যয় বহনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মানুষের পাশে দাড়ানো মানবতার ধর্ম। তাছাড়া, প্রত্যেকটি ধর্মে মানবসেবার কথা বলা হয়েছে। কেননা স্রষ্টার নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে মানবসেবা।এই উদ্দেশ্যই প্রত্যেক ধর্মের মনীষীগণ মানবসেবায় উৎসাহিত করেছেন। মানবসেবা সম্পর্কে ইসলামের নবি হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ) বলেছেন, “যে মুসলমান অন্য মুসলমানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় বস্ত্র দান করবে, আল্লাহ তায়া’লা তাকে জান্নাতে সবুজ বর্ণের পোশাক পড়াবে, খাদ্য দান করলে তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন, পানি পান করলে জান্নাতের শরবত পান করাবে।” ( আবু দাউদ,হাদিস- ১৬৮২)।

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ইশ্বর।”
অর্থাৎ একজন মানুষের জীবন তখনই স্বার্থক হয় যখন সে নিজেকে মানবসেবায় নিয়োজিত করে। তাই আমাদের সকলের উচিত শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কষ্ট লাগবে নিজেদের অংশীদার করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights