ইংল্যান্ড দলে বিভাজনের গুঞ্জন, ‘তিলকে তাল’ বললেন হ্যারি কেইন

স্পোর্টস ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ফাটল বা গৃহবিবাদের গুঞ্জন সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন থ্রি লায়নস অধিনায়ক হ্যারি কেইন। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ টমাস টুখেল এবং তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামের মধ্যে মতবিরোধের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অধিনায়ক কেইন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তাদের দল ‘সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ’ রয়েছে।

কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর দলের খেলায় অসন্তোষ প্রকাশ করে টুখেল বলেছিলেন, দল আজ ঢিলেঢালা খেলেছে, জয়টি ভাগ্যের জোরে এসেছে এবং কোনো বিচারেই এই পারফরম্যান্স যথেষ্ট ছিল না। কোচের এমন মন্তব্যে কিছুটা বিরক্ত হয়ে বেলিংহ্যাম প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন, হ্যাঁ, আচ্ছা, যা-ই হোক। মাঠে খেলাটা কঠিন ছিল—খুবই কঠিন একটি ম্যাচ পার করতে হয়েছে আমাদের।

গত বছর টমাস টুখেল ইংল্যান্ডের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেলিংহ্যামের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে আলবেনিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার পর বেলিংহ্যামের অসন্তোষ প্রকাশকে টুখেল ‘বিরক্তিকর’ বলে মন্তব্য করার পর এই দ্বন্দ্বের খবর আরও ডালপালা মেলে। যদিও চলতি বছরের শুরুর দিকেই তারা বৈঠকের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়েছিলেন।

এবার সেমিফাইনালের মহারণের আগে দলের ফাটলের গুঞ্জন নিয়ে বিবিসি স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে হ্যারি কেইন বলেন, টানটান উত্তেজনার একটি ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট পরই যখন এমন প্রশ্ন করা হয়, আর জুড নিজেও জানত না টুখেল ঠিক কী বলেছেন, তখন তার কাছ থেকে আপনারা আর কী প্রতিক্রিয়া আশা করেন? আমরা কেবলই একটা কঠিন লড়াই পার করে এসেছি। এই বড় টুর্নামেন্টগুলোতে আমাদের দলে ফাটল বা বিভাজন খোঁজাটা যেন একটা অলিখিত রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ উল্টো। আমাদের এই সাফল্যের পেছনে খেলোয়াড়, কোচ ও স্টাফ—সবার চমৎকার বোঝাপড়া ও একতাই মূল চাবিকাঠি। এখানে তিলকে তাল করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

কোচ টুখেলের অকপট স্বভাবের প্রশংসা করে অধিনায়ক বলেন, টুখেল সব সময়ই মন খুলে কথা বলেন এবং সবাই তার এই সততাকে সম্মান করে। তার কথা কখনো আগে থেকে ঠিক করা চিত্রনাট্যের মতো হয় না, যা তাকে বাকিদের চেয়ে আলাদা করে তোলে। গত দুই বছরে আমরা তাকে খুব কাছ থেকে জেনেছি এবং তার ফুটবলীয় দর্শনকে আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ এবং আমরা তার চাওয়াটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারি। সেমিফাইনালের মঞ্চে নামার আগে মাঠের বাইরের সমস্ত গুঞ্জনকে একপাশে সরিয়ে রেখে ইংল্যান্ড দল এখন কেবলই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে অভিন্ন পরিকল্পনায় এগিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights