ইউক্রেনে রক্তক্ষয়ী জুন, আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে জুলাই

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ভার্সন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে গত জুন মাসে একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই কৌশল অনুযায়ী রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানি অবকাঠামো ও স্যাটেলাইট কেন্দ্রসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নানা স্থাপনায় অনবরত ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। শুরুর দিকে এই হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি খাতে বড় বিপর্যয় ঘটলেও শেষ পর্যন্ত তা ইউক্রেনের জন্যই বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুতিন পিছু হটার পরিবর্তে তীব্র পাল্টা আঘাত শুরু করায় ইউক্রেন যুদ্ধ এখন তার শুরুর দিকের সেই চেনা ধ্বংসাত্মক রূপে ফিরে গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সদ্য সমাপ্ত জুন মাসটিই ছিল ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও ভয়ঙ্কর। কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে মৃত্যু, হামলা আর ধ্বংসস্তুপ এখন নিত্যদিনের চিত্র। প্রতি মুহূর্তেই বাজছে সাইরেন, আর সাধারণ মানুষ ছুটছেন আশ্রয়ের খোঁজে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের হিসাব অনুযায়ী, জুন মাসে রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২৯৩ জন ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ফলে চলতি বছরের এ পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪০০ তে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৭ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

তবে জুনের সেই ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে চলতি জুলাই মাস আরও বেশি ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়েই নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪০ জনে। যুদ্ধের এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে প্রাণহানি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ড্যানিয়েল বেল এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, জনবহুল শহরগুলোতে শক্তিশালী ও ভারী অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণেই বেসামরিক হতাহতের এই উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দনিপ্রো, ওদেসা এবং রাজধানী কিয়েভের আবাসিক ভবনগুলোতে দূরপাল্লার রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলাই বেসামরিক প্রাণহানির প্রধান কারণ। জাতিসংঘের তথ্য বলছে, দূরপাল্লার অস্ত্রের আঘাতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে, ফ্রন্ট লাইনের বা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী ছিল স্বল্প-পাল্লার ড্রোন। ড্যানিয়েল বেলের মতে, এই ড্রোনগুলো ফ্রন্ট লাইনের বাসিন্দাদের জীবন পুরোপুরি ওলটপালট করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন ঘরের বাইরে বের হয়ে বাজার করা, পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা নিজের উঠানে কাজ করার মতো অতি সাধারণ দৈনন্দিন কাজের সময়ও ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছেন। এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। আকাশসীমা ও নাগরিকদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে তারা ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে দ্রুত সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights