ইউরোপ ছাড়াই ‘বোর্ড অব পিস’ এর বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক

ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো ‘বোর্ড অব পিস’ নামে বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এটিকে বিশ্ব শান্তির নতুন মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে বড় কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এতে যোগ না দেওয়ায় শুরুতেই প্রশ্ন উঠেছে।

বৈঠকটি হয় ‘ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস’-এ। ট্রাম্প বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড। এর মতো আর কিছু হয়নি। তিনি দাবি করেন, তার উদ্যোগে ইতিমধ্যে ৮টি যুদ্ধ থেমেছে। নবমটি কিছুটা কঠিন, তবে সেটিও হবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, গাজার যুদ্ধবিরতি ধরে রাখা, মানবিক সহায়তা, গাজার প্রশাসনের জন্য একটি জাতীয় কমিটি এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের মতো বিষয় আলোচনায় ছিল। ট্রাম্প বহু বিলিয়ন ডলারের গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনাও ঘোষণা করতে পারেন। তিনি বলেন, ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যদিও কোন দেশ কত দেবে তা স্পষ্ট নয়।

এই বৈঠকে প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেই উপস্থিত ছিলেন। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও স্লোভেনিয়া যোগ দেয়নি। তাদের আশঙ্কা, এই বোর্ড জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল করতে পারে। পোপ লিও চতুর্দশও আমন্ত্রণ নাকচ করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইতালি পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিল। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, গাজার পুলিশ প্রশিক্ষণে সহায়তা দিতে পারে রোম।

এদিকে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা অংশ নেবে কী না, তা নিশ্চিত নয়। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের উপদেষ্টারা এই ব্যবস্থায় আপত্তি জানিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন।

গাজায় যুদ্ধবিরতি মোটামুটি টিকে আছে। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ধ্বংসস্তূপে পরিণত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও বাস্তুচ্যুতদের ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়—এই ‘বোর্ড অব পিস’ সত্যিই শান্তি আনতে পারে, নাকি নতুন বিতর্ক বৃদ্ধি করে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights