ইউরোপ যাত্রায় নিহত ১৮ বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার সময় নৌকাডুবি ও অনাহারে অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সুনামগঞ্জে। নিহতদের মধ্যে ১২ জনই জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশিদের গ্রিস উপকূল থেকে উদ্ধার করে একটি শরণার্থী শিবিরে রাখা হয়েছে। তাদের অনেকেই অসুস্থ অবস্থায় আছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ যাত্রার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।
স্বজনদের অভিযোগ, দালাল চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের সন্তানদের অবৈধপথে বিদেশে পাঠিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এসব দালালদের বিচার এবং অবৈধভাবে ইউরোপ যাত্রা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিহত সাহান এহিয়ার বড় ভাই মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, প্রায় এক মাস আগে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে দালালের মাধ্যমে তার ভাই ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর কয়েক দিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে স্বজনদের কাছ থেকে মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, একটি ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকায় গাদাগাদি করে তাদের ইতালির উদ্দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু নৌকাটি পথ হারিয়ে ফেলে এবং কয়েক দিন সাগরে ভাসতে থাকে। একপর্যায়ে খাবার ও পানীয় জলের সংকট দেখা দিলে টানা ছয় দিন অনাহারে-অর্ধাহারে থেকে একে একে ১৮ জন মারা যান। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। এ পর্যন্ত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজন সরকার বলেন, বিভিন্ন সূত্রে নিহত ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কোনো স্থানীয় দালাল চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার প্রবণতা রোধে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হবে।
