ইউরোপ যেতে চেয়ে লিবিয়ায় আটকা, দেশে ফেরার আকুতি ৯ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা থেকে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেতে চেয়ে লিবিয়ায় আটকা পড়েছেন ৯ বাংলাদেশি। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় তারা দালালের কাছ থেকে মুক্ত হতে পারলেও পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় দেশে ফিরতে পারছেন না। এক ভিডিও বার্তায় তারা দ্রুত দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।

আটকে পড়াদের মধ্যে সবার বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর কয়েকজনের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ৯ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করলে প্রথমবারের মতো বিষয়টি সামনে আসে।

আটকে পড়াদের মধ্যে আছেন গন্ডামারা ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন, রুকনুল ইসলাম, মোহাম্মদ কাউছার মিয়া, আজগর হোসেন, মো. মোরশেদুল আলম, মোহাম্মদ আশেক ও তার ভাই ইব্রাহিম খলিল, বাঁশখালী পৌরসভার আইয়ুব আলী ও কাথরিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ করিম।
গত সোমবার পরিবারের কাছে করিমের পাঠানো ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের এক ভিডিওতে ৯ জন যেকোনোভাবে দেশে ফেরার আকুতি জানান। ভিডিওতে তারা বলেন, ‘আমরা দালাল চক্রের মাধ্যমে লিবিয়ায় এসে গেছি। এখানে আসার পর কোনো কাজ কর্ম নেই। এখানে আসতে ১২-১৪ লাখ টাকা করে সবার খবচ হয়েছে। এখন আমাদের কাছে দেওয়ার মতো আর কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, যত দ্রুত সম্ভব আমাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আমরা জীবিত দেশে ফিরতে চাই। আমাদের মা বাবারা অনেক অসহায় হয়ে গেছে। জায়গা জমি বিক্রি করে এখানে এসেছি।’

আটকে পড়া মোরশেদুল আলমের বাবা নুরুল আমিন বলেন, ৯/১০ মাস আগে বাঁশখালীর হেলাল নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ঢাকার ফকিরাপুলে টাকা জমা দিয়েছি। ঋণ নিয়ে মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি। মালয়েশিয়া নেবে বলেছিল। কিন্তু একদিন আমার ছেলে জানায় সে লিবিয়া। সেখানে ওকে অনেক মেরেছে। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই। সে দেড় বছর আগে বিয়ে করেছে। ওর বউ চলে যেতে চাচ্ছে।

বাঁশখালী’র ইউএনও জেসমিন আক্তার জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য লিখিত আবেদন করা হয়। পরে লিবিয়ায় বাংলাদেশি দূতাবাসে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা পাওয়ার পর ৯ জনকে দালালদের কাছ থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে তারা নিরাপদে আছেন। কিন্তু কারো ভিসা-পাসপোর্ট না থাকায় কোন প্রক্রিয়ায় তাদের ফিরিয়ে আনা হবে, সে বিষয়ে দূতাবাসের সাথে আলোচনা চলছে। উনারা চেষ্টা করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights