ইতিহাসের অপেক্ষায় মিরাজ বাহিনী
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্যারিয়ারে প্রথমবার ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। গতির ঝড় তুলেছেন নাহিদ রানা। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। বিশ্বচ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে মিরাজ বাহিনীর পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। টাইগার ক্রিকেটাররা অবিশ্বাস্য ক্রিকেট খেলে পাত্তাই দেননি অস্ট্রেলিয়াকে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ডিএলএস মেথডে ৮৬ রানে জয়ী ম্যাচে একাধিক পারফরমার। কিন্তু সব আলো কেড়ে নেন মোসাদ্দেক। চার বছর পর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে রূপকথা লেখেন স্পিন অলরাউন্ডার। তার প্রত্যাবর্তনের গল্পটি ছিল বীরোচিত ও স্মরণীয়। সব বন্দনা মোসাদ্দেকের জন্য হলেও ম্যাচের আরেক নায়ক ‘স্পিডস্টার’ নাহিদ রানা। গতি, বাউন্স, সুইং ও আগ্রাসি মেজাজে ম্যাচের চিত্রটাই পাল্টে দিয়েছেন। কার্ডিফে অবিশ্বাস্য জয়ের ২১ বছর পর মিরপুরে জয়ের নায়ক মোসাদ্দেক। কিন্তু আড়ালের নায়ক নাহিদ। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজের মতো চলমান অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও গতির ঝড় তুলে ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন নাহিদ রানা।
নাহিদ রানা যেমন গতির ঝড় তুলে আলো কেড়ে নিচ্ছেন, তেমনই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হাতছানি দিচ্ছে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে টি-২০ সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডে জেতায় এবার সুযোগ হয়েছে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জয়ের। এজন্য আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতলেই হবে। অসিদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের পর দ্বিতীয়টি জিততে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২১ বছর, ১৫ ওয়ানডে।
মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে অসি অধিনায়ক জশ ইংলিশকে আউট করার পর নাহিদ রানার উচ্ছ্বাসপেন্সিলের মতো সরু ছিপছিপে নাহিদ রানা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৪ বছরের দীর্ঘকায় তরুণ বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত পেসার। গতির সঙ্গে আগ্রাসি মেজাজে বাউন্সের অপূর্ব সুরে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলছেন প্রতি ম্যাচেই। ২০২৪ সালে শারজাহতে অভিষেক নাহিদের। ১০ ওভারের স্পেলে ৪০ রানের খরচে ২ উইকেট নিলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ভবিষ্যতের। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাননি। গত ১৭ মাসে ১২টি ওয়ানডে খেলেছেন। প্রতিটি ম্যাচেই গতি ও বাউন্সে প্রতিপক্ষকে নাকাল করেছেন। মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন স্পিডস্টার। তিন ম্যাচে উইকেট নিয়েছিলেন ৭টি। এর মধ্যে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৪ রানের খরচে নেন ৫ উইকেট। যা তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। নিউজিল্যান্ড সিরিজেও গতির ঝড় তুলে ৮ উইকেট নেন। ৫ উইকেট নেন এক ম্যাচে। ম্যাচগুলোতে টানা বোলিং করে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও এগিয়েছেন ২৩ ধাপ। ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এখন ২৪ নম্বরে।
দলে মুস্তাফিজুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ পেসার রয়েছেন। রয়েছেন তাসকিনের মতো ফাস্ট বোলার। তারপরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ইয়ান বিশপ অপেক্ষায় আছেন অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার হার্ড ও বাউন্সি উইকেটগুলোতে নাহিদের বোলিং দেখতে। মিরপুর, সিলেট, চট্টগ্রামের উইকেটগুলোতে নিয়মিত ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি উইকেট চারটি নিয়েছেন ১৪৭.৯, ১৪৬.২, ১৪৬.৮ ও ১৪৭.২ কিলোমিটার গতির বোলিংয়ে।
