ইয়েমেনে আসলে কি হচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক

ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সরকারি বাহিনী ও ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালওলির নিয়ন্ত্রণ এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলোর দখল নিয়ে এই তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

সামরিক ও চিকিৎসাসূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে অন্তত ৬৬ জন সরকারি সেনা এবং ৬২ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সংঘাতে একজন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির তথ্যও নিশ্চিত করা হয়েছে।

হুথিরা রকেট ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ধরনের স্থল আক্রমণ চালালে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা আল-জারাফির দক্ষিণ দিক থেকে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে হাইস জেলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে এবং তাইজ প্রদেশের হাইফান জেলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উচ্চভূমি নিজেদের দখলে নিয়েছে। এর পাশাপাশি তাইজ ও হুদাইদার পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান, জমায়েত ও গাড়িবহর লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমানগুলো অন্তত পনেরোটিরও বেশি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে।

এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযোগকারী সংকীর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালী, যা এশিয়া, ইউরোপ এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যকার প্রধান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ।

মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের চালান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য এই লোহিত সাগর রুটটির গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। হুথিরা মূলত মখা বন্দর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশের উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা সফল হলে তারা এই জলসীমায় চলাচলকারী যেকোনো জাহাজে সহজে হামলা চালাতে সক্ষম হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এডেন থেকে তাইজে প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমী কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, হুথিদের এই অগ্রসর হওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা তাদের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ও কঠোর যুদ্ধে পরিণত হবে।

২০২২ সালের একটি ভঙ্গুর চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শান্ত থাকা এই সংঘাতের পরিবেশ গত জুলাই মাসে নতুন করে চরম অবনতির দিকে মোড় নেয়। সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণ এবং পরবর্তীতে সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার মাধ্যমে সেই শান্তিচুক্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। এর পাশাপাশি গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ধারাবাহিক বিঘ্ন ঘটিয়ে আসছিল হুথি বিদ্রোহীরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights